হাওয়ায় হাওয়ায় ‘বসন্ত উৎসব’

0
244

5-1নিউজ ডেস্ক: এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো। আজ সোমবার, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। গাছের নতুন পাতা, শিমুলের ডালে আগুন রাঙা বাসন্তী ফুল জানান দিচ্ছে, ইট কংক্রিটের রাজধানী ঢাকাতেও আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। ঋতুচক্র এখন পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না ঠিকই, কিন্তু বসন্ত লুকিয়ে আসতে পারে না। প্রকৃতি তার নতুন সাজে জানান দেয়, বাতাসে লাগিছে দোলা।

বসন্তের আগমন ও বরণের মধ্য দিয়ে ১৯৫২ সালের সেই ফাল্গুন মনে পড়ে, যেদিন ভাষার লড়াইয়ে তরুণেরা প্রাণ দিয়েছিল এই বিশ্বাসে, একদিন রক্ততিলক আর ললাটের সূর্যদেবতা শাসকের গুলিকে হেয় করে ছিনিয়ে নেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই বসন্তেই কয়েক দশক আগে, বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিশা পেয়েছিল। এই বসন্তেই স্বৈরাচারের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষার অধিকারের লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছিল দিপালী কাঞ্চনরা। এই বসন্তেই কয়েক বছর আগে, যু্দ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে স্ফুলিঙ্গ গণজাগরণ।

১৮ বছর আগে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। রাজধানীর বুকের মানুষ, ঠাসাবুনোটের এই শহরে কেমনে কাটে তাদের বসন্তের প্রহর? ফাগুনের প্রথম দিনটি? সকাল শুরু হওয়া মাত্রই নানা অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সকলে বরণ করে নেন বসন্তকে। ফুলে ফুলে মিষ্টি রাঙায় রাঙিয়ে নেন নিজেদের। বড় প্রশান্তিময় সেই মুখশ্রীগুলো। হলুদ ও বাসন্তী রঙের সাজ-পোশাকে নারী-পুরুষের সরব উপস্থিতি জানান দেয় পয়লা ফাল্গুন।

তরুণীরা এই দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে কখন আসবে ফাগুনের এই দিন। যেদিন সবাই মিলে হৈ-হুল্লোড় করবে। নারীরা হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি, জামা পরে নিজেদের সাজসজ্জায় রাঙিয়ে তুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে। বাইরে বেরুলেই মনে হয় যেন প্রকৃতির বুকে ফাগুনের বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আজ সেই কাঙ্ক্ষিত পয়লা ফাল্গুনে কিশোরী থেকে তরুণী সবাই ফুলের মালা হাতে আর চুলে জড়িয়ে ঘুরছে চারদিক। দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নূপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই। বসন্ত আমাদের জীবনে সত্যিকার হয়ে আসুক। অর্থবহ হয়ে উঠুক পলাশ-শিমুলের রঙ, কোকিলের কুহুতান। সকলকে পয়লা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা।

বসন্ত উদযাপনে প্রস্তুতির কমতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, টিএসসিতে আয়োজন করা হয়েছে বসন্ত বরণ উৎসবের। অনুষ্ঠানে থাকবে বসন্তকথন, প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোর ও আদিবাসীদের পরিবেশনা এবং বসন্ত শোভাযাত্রা। এছাড়া ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, পুরাণ ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে থাকছে বসন্তের অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here