হাইপারটেনশন রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার

0
234

healtস্বাস্থ্য ডেস্ক: অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ এর প্রভাবে শরীরের বিপাকক্রিয়ার দ্বারা রক্ত চলাচলের রাস্তাসমূহ artery এবং veins এ অত্যধিক মাত্রায় toxic matter (বিষাক্ত পদার্থ) জমা হতে থাকে ফলে রক্ত চলাচলের পথ প্রয়োজনের তুলনায় সরু হয়ে যায়। এবং রক্ত এই দূষিত পদার্থের সাথে মিশে ঘন হয়ে যায়। এই দূষিত ঘন রক্তপ্রবাহ চলাচলের জন্য স্বাভাবিক গতির তুলনায় অধিক গতির প্রয়োজন হয়। ফলে normal pressure অপেক্ষা high pressure প্রয়োগ করতে হয়।

যা শরীর ক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়ম নয়। Arterial এবং Venous blood pressure যখন স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বেড়ে যায় (>130/>85mmHg) তখন সে অবস্থাকে হাইপারটেনশন বলে। এটি শুধুমাত্র রোগের লক্ষণ নয় এটি নিজেও একটি রোগ।

কৃত্রিম উপায়ে (ঔষধ, ইনজেক্শন) হাইপারটেনশনকে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও পরবর্তী ফলাফল আশানুরূপ হয় না। প্রাকৃতিক চিকিৎসায় কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে হাইপারটেনশন এর ক্ষেত্রে প্রকৃত নিরাময় লাভ সম্ভব।
হাইপারটেনশন নিরাময়ে প্রাকৃতিক চিকিৎসার ধাপসমূহঃ
১. সাত ক্ষেত্রবিশেষে চৌদ্দ দিনের exclusive fresh fruit fasting.
২. সাত রাত Warm water enema.
৩. Dry friction
৪. Epsom salt bath
৫. Spinal manipulation
৬. Chromotherapy
৭. আকুপ্রেসার
৮. Relaxation therapyi
হাইপারটেনশন থেকে সৃষ্ট জটিলতাসমূহঃ
রক্তচাপ যত বৃদ্ধি পায় নানাবিধ জটিল রোগ সৃষ্টির ঝুঁকি তত বেড়ে যায়। যেমনঃ – Stroke (lack of oxygen in the brain),
– Myocardial infarction (destruction of heart tissue),
– Angina pectoris (chest pain due to lack of oxygen in the heart),
– Renal failure (kidney disorder)
– Scotoma (vision disorder),
– Retinal disfunction
রক্তপ্রবাহ প্রধানতঃ হার্ট, ফুসফুস এবং কিডনী দ্বারা চক্রাকারে পরিশোধিত হয়ে শরীর সচল রাখে। হার্ট systolic pressure (The blood pressure during the contraction of the left ventricle of heart) এবং diastolic pressure (The blood pressure after the contraction of heart while the chambers of the heart refill with blood) এর মাধ্যমে body function থেকে রক্ত গ্রহণ এবং পূণরায় প্রেরণ করে থাকে। হার্টের এ দু’ধরনের প্রেসারের উপর ভিত্তি করেই রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- রক্তচাপের শ্রেণীকরণ করেছে-
Normal :
Systolic pressure <130 mmHg
Diastolic pressure <85 mmHg
High normal :
Systolic pressure 130-140 mmHg
Diastolic pressure 85-90 mmHg
In Hypertension :
Mild: Systolic pressure140-159 & Diastolic pressure 90-99 mmHg
Moderate: Systolic 160-179 & Diastolic pressure 100-109 mmHg
Severe: Systolic >180 mmHg &
diastolic pressure >110 mmHg
Blood pressure মাপার নিয়মঃ
বসা অবস্থায়, যেকোন এক হাতে এবং পরপর তিনবার মাপা।
হাইপারটেনশন হবার কারণ ও ধরণঃ
1. Primary or essential hypertension : – জিনগত: এক বা একাধিক জিনগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে।
– পরিবেশগত কারণ: এক্ষেত্রে খাবারে অতিরিক্ত লবন গ্রহণ, মেদ, মানসিক চাপ এবং ধূমপান দায়ী।
2. Secondary hypertension: –
-a) Kidney disease, যেমন:
-Chronic kidney disease,
-Nephritis (blood & protein in the urine) ,
-Tumors of kidney.

b) Endocrine gland disorder, যেমন: – Hyperadrenocortisism ( adrenal gland এর cortisol হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ), – Tumor of adrenal gland, – Hyperthyroidism – Diabetes,
c) Heart disorder, যেমন: – Artery block of heart, – Coarctation of aorta
d) Neurological disorder, যেমন:
– increase CSF (Cerebrospinal fluid) pressure, – Death in sleep (due to lack of oxygen)
e) Mental stress
d) Long time intake oral contraceptive pills

লক্ষণঃ
– মাথা ব্যথা, কখনো কখনো মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
– ক্লান্তি
– মাথা ঘোরানো
– দ্রুত হৃদস্পন্দন
– নাক দিয়ে রক্ত পড়া
– চোখে ঝাপসা দেখা
– শ্বাসকষ্ট
– হজমের সমস্যা
– আকস্মিক আচরণে পরিবর্তন
হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে করণীয়-
খাদ্যাভ্যাসঃ
– দৈনিক ৫ গ্রাম এর কম লবন গ্রহণ করা।
– Red meat এর পরিবর্তে ছোট মাছ, মাঝারী দেশী মাছ, সামুদ্রিক মাছ খাওয়া।
– প্রতিদিন পাঁচ রংয়ের (সবুজ,হলুদ,লাল/কমলা,বেগুনী,সাদা) ফল এবং সবজির সালাদ খাওয়া।
– অলিভ অয়েল, সূর্যমুখী তেল, কড লিভার অয়েল এর ব্যবহার
– লাল আটার রুটি
– ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল
– অঙ্কুরিত গম, ছোলা
জীবণাচরণঃ
– অতিরিক্ত ওজন কমানো
– নিয়মিত Yoga, Meditation করার অভ্যাস করা
– মদ্যপান, ধূমপান ত্যাগ করা
– নিয়মিত blood pressure পরীক্ষা করা
– সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা
– বাগান করা, গান শোনা, মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণ করা।
– রাগ নিয়ন্ত্রণ করা।
তবে খেলাধূলা, ব্যয়াম, ভারী কাজ করার পর রক্তচাপ সাময়িক বেড়ে যায় কিন্তু বিশ্রামের পর আবার তা
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এইসব অবস্থার প্রেক্ষিতে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া হাইপারটেনশনের আওতায় পড়বে না।
হাইপারটেনশন একদিকে যেমন নানা রোগ থেকে সৃষ্টি হয় তেমনি এটি নিজেও নানাবিধ জটিল রোগের কারণ। অনিয়ন্ত্রিত হাইপারটেনশ প্যারালাইসিস, অন্ধত্ব এর মতো পঙ্গুত্ব বয়ে নিয়ে আসে।

লেখক: Oindrila Akter (MSS & BNYS)
Naturopath & Food Consultant India

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here