হলো না টাইগারদের শততম জয়

0
246

16-3স্পোর্টস ডেস্ক: শুধু সিরিজ জয় নয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের শততম জয়ের লক্ষ্যেও আফগানদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অপেক্ষা বড়লো শততম ম্যাচ জয়ের।

আফগানিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। এতে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরলো সফরকারিরা।

আজ বুধবারর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও অফগানিস্তান। এদিন সফরকারিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

তবে অভিষেক ম্যাচে বাজিমাত করা তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অপরাজিত ৪৫ রানে দুর্দান্ত ইনিংসে আফগানদের ২০৯ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গৈট ছুঁড়ে দেয় মাশরাফি বাহিনী।

২০৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ০২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেট হারিয় জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্টানিকজাই বাহিনী।

জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব-আল-হাসানের স্পিন বিষে নীল হয়ে যায় আফগান শিবির। চতুর্থ ওভারে সাকিবের বোলে কভার অঞ্চলে দিয়ে তাইজুলের তালুবন্দী হন নওরোজ মোঙ্গল। প্যাভিলিয়নে ফেরার পূর্বে তার ব্যাক্তিগত সংগ্রহ ১০ রান।

একই ওভারের শেষ বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লেন রহমত শাহ। প্রথম ম্যাচে ৭১ রান করা এই ব্যাটসম্যান আজ সাকিবের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে ফিরতে হলো খালি হাতে।

এরপর ৪৫ রানের বড় পার্টনারশীপ করেন ওপেনার শাহজাদ ও শাহিদি। তবে সেই জুটিতে ছোবল মানের অভিষেক হওয়া তরুণ অলরাউন্ডার সৈকত। ওভারের প্রথম বলেই এলবির ফাঁদে ফেলেন শাহিদিকে। ১৪ রান করে ফিরেন তিনি।

এরপর আবারও সাকিবের উইকেট। এবার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের হাতে বিদায় নিলেন মারকুটে ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। ৩৫ রানে তিনি ফিরেন তাসকিনের তুলবন্দি হয়ে।

সাকিব-সৈকতের বোলিং তোপের ঝাঁঝ কাটিয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নিতে হয়নি আফগানদের। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আসগর স্টানিকজাই আর মোহাম্মদ নবি মিলে আফগানিস্তানকে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে নিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৪৯.০৪ বলে ২ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারিরা। টাইগারদের পক্ষে সর্বচ্চো ৪ উইকেট নেন অলরাউন্ডার সাকিব এছাড়াও তরুণ ক্রিকেটার সৈকত ২টি , দলপতি মাশরাফি ও তাসকিন নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে দলের হয়ে ওপেনিংয়ে খেলতে নামে টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দারুণ সূচনা করলেও ২০ রানের বেশি করতে পারেনি তামিম। মিরওয়াইজ আশরাফের বোলে দাওলাত জাদরানের তালুবন্দি হয়ে ফিরেন তিনি। প্যাভিলিয়নে ফেরার পূর্বে ৩৬ বলে ৩ চারে ২০ রান সংগ্রহ করেন তামিম।

তামিম-সৌম্যের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। তাদের ৬১ রানের পার্টানরশীপ বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে নাভিনুল হকের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। ৩৯ বলে তার সংগ্রহ ২৫ রান।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর বিদায় নেন মুশফিকও। রহমাত শাহর বলে নাভিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি। ৫১ বলে তার সংগ্রহ ছিল ৩৮।

এদিকে মাত্র ১৭ রান করে লেগ বিফোর আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে সাকিবকে। যদিও এ ক্ষেত্রে আম্পায়ারের ভুলের শিকার তিনি। সাকিবের পর ফিরে যান সাব্বির রহমানও। গত ম্যাচেও তিনি ছিলেন ব্যর্থ। এই ম্যাচেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন না। দলীয় ১৩৮ রানে আউট হন সাব্বির। ব্যাটসম্যান হিসেবে এরপর ছিলেন ক্রিজে শুধু মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার সঙ্গে মাশরাফি।

তবে পারলেন না অধিনায়কও। মাত্র ২ রান করে লং অফে ক্যাচ আউট হন তিনি। ফলে ১৪১ রানে আউট হয়ে যায় ৭জন ব্যাটসম্যান। এসময় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বেশ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল। দু’জনের ২৪ রানের জুটিটি ছিল দারুণ কার্যকর। তবে রশিদ খানের ঘূর্ণি জাদুতে পর পর তাইজুল এবং তাসকিনকে ফিরতে হয়। কিন্তু হ্যাটট্রিক মিস করে দিলেন রুবেল হোসেন।

আর শেষ জুটিতে রুবেল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন মোসাদ্দেক । শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রান গিয়ে থামলো ২০৮ রানে। ৫০তম ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান রুবেল হোসেন। ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন সৈকত।

আফগানদের হয়ে সর্বচ্চো ৩টি উইকেট নেন রশিদ খান, এছাড়াও মোহাম্মদ নবি এবং মিরওয়াইজ আশরাফ নেন ২টি করে উইকেট।