হতাশার জন্ম আপনার মস্তিষ্কে নয়, অন্ত্রে!

0
236

pet monএর আগে ধারণা করা হত যে, মানুষের ভেতরে হতাশার জন্ম দিতে সবচাইতে বড় ভূমিকা রাখে তার মস্তিষ্ক। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন যে বিষয়টি মোটেও তা নয়। মস্তিষ্কের চাইতে মানুষের অন্ত্র সবচাইতে বেশি ভূমিকা রাখে এক্ষেত্রে। অন্ত্রে বসবাসরত কিছু ব্যাকটেরিয়াই মানুষের ভেতরের হতাশাকে নিয়ন্ত্রণ করে!

মূলত, আমাদের অন্ত্রের সাথে মস্তিষ্কের বেশ ভালো ধরণের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি অন্ত্রের এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম নামক একটি সম্পূর্ণ আলাদা ক্রিয় পদ্ধতিও রয়েছে। ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক আর অন্ত্র একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকে। তাই উত্তেজনায় মাঝে মাঝেই আমরা পেটের ভেতরে প্রজাপতি উড়ে বেড়ানোর যে উদাহরণ দেই সেটা কিন্তু একেবারেই মিথ্যে নয়। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল অন্ত্রের সাথে মানুষের হতাশার যোগাযোগটা কোথায়?

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের ভেতরে কাজ করা সমস্ত উদ্বিগ্নতা, উত্তেজনা, হতাশাসহ মানসিক সমস্যাগুলোর বেশিরভাগই তার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এ্যাবনরমালিটিসের সাথে যুক্ত। আর সব রোগের মতনই হতাশাও এক রকমের প্রদাহ দ্বারা সৃষ্ট রোগ। যেটার প্রধান কারণ হল গিয়ে আমাদের অন্ত্র

অন্ত্রের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোই যেহেতু আমাদের জীবনের হতাশার কারণ, সেহেতু এর প্রতিকারও ধীরে ধীরে খুব সহজ হয়ে যবে এখন চিকিৎসকদের কাছে, এমনটাই ভাবছেন সমস্ত বৈজ্ঞানিকেরা। আর এজন্যে হতাশ অবস্থায় মানুষকে সুস্থ ও হাসিখুশী করে তুলতে কিছু উপায়ও বাতলে দিয়েছেন তারা। উপায়গুলো হল-

১. তাজা খাবার গ্রহন করুন

সেই সব খাবার বেশি করে খান যেগুলো তৈরি করা হয়নি, জন্ম নিয়েছে। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক খাবারগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিন। কারণ, তৈরি খাবারে এমন সব রাসায়নিক উপাদান থাকে যেটি আপনার পাকস্থলী সহজে নাও নিতে পারে। ফলে তৈরি হয় প্রদাহ। আর এক গবেষণায় পাওয়া যায় যে, তৈরি খাবারে প্রাকৃতিক খাবারের চাইতে ৬০ গুন বেশি আশঙ্কা থাকে প্রদাহের মুখে পড়ার। আর প্রদাহ থেকেই তো হতাশার সৃষ্টি!

২. মিহি চিনি, সাপ্লিমেন্টস, প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধসামগ্রী ও ময়দা থেকে দূরে থাকুন

মোটা দানার আখের চিনি গ্রহন করুন। গরুর খাঁটি ও নির্ভেজাল দুধ পান করুন। কিন্তু ভুলেও মিহি চিনি, প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধসামগ্রী ও ময়দার কাছ ঘেঁষবেননা। কারণ, এই জিনিসগুলো আপনার অন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে ভয়ংকরভাবে সাহায্য করে। ফলে তৈরি হয় মানসিক অবসাদ ও হতাশা। এসব তো গেল খাবারের কথা। এর পাশাপাশি এড়িয়ে চলুন সাপ্লিমেন্টগুলোকেও।

৩. প্রোটিন গ্রহন করুন

প্রোটিন দেহের ও মানসিক স্বাস্থের জন্যে বেশ উপকারী ও প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। কিছু প্রোটিনকে বাদ দিতে হয় যদিও। তবে গ্রহন করুন মুরগী, ডিম, অ্যাভোকাডো ও তেলযুক্ত মাছ। এগুলো আপনাকে যোগান দেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেলের। যেগুলো আপনার মনকে করে তুলবে প্রফুল্ল।

৪. ভিটামিন ডি গ্রহন করুন

ভিটামিন ডি কে মস্তিষ্কের সুন্দর ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্যে বেশ জরুরী বলে মনে করা হয়। তবে এটি মানসিক স্বাস্থ্যে ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। তাই বেশি করে রুটি, দুধ, ফলের রস পান করুন। এগুলো আপনাকে হতাশা থেকে নিজেকে তুলে আনার শক্তি প্রদান করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here