স্বপ্ন মেলুক ডানা, সেমিতে আজ ভারতের মুখোমুখি টাইগাররা

0
86

untitled-4_301087স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বসেরা, তাতে কি?

ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, সো হোয়াট?

এজবাস্টনে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে গোটা বাংলাদেশের মনোভাব এমনই। কী হবে পরের কথা। আজ জয় ছাড়া কিছু ভাবছে না বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফিও কি তাই ভাবছেন, ‘ছেলেরা সবাই

ভীষণ রোমাঞ্চিত। প্রথমবারের মতো তারা এ ধরনের টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলছে। তবে আমার কাছে মনে হয় যে এই ম্যাচটাকে সেমিফাইনাল ম্যাচ না ভেবে আরও একটা ম্যাচ ভেবে খেলতে পারলেই ভালো হবে।’ যার মানে কোনো ধরনের চাপ নিতে চাইছেন না মাশরাফি। নির্ভার হয়ে খেলতে পারলেই আসবে সফলতা। সেমিফাইনালের স্বপ্নযাত্রাটাকে আরও দূর নিয়ে যেতে হবে। যারা ঈর্ষণীয় ওয়ানডে রেকর্ড-শক্তি-অভিজ্ঞতায় ভারতকে এগিয়ে রাখছেন, তাদের জন্য লেখা রইল_ ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। যারা যুক্তি-রেকর্ড-পরিসংখ্যান ছেড়ে স্রেফ স্বপ্ন দেখতে চাইছেন, তাদের জন্য লেখা রইল_ আজ এজবাস্টনে ভালো কিছু হবে।

ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বলেই প্রত্যাশার মাত্রাটা একটু বেশি। সব সময় তো কাগজে-কলমের হিসাবে সবকিছু হয় না। এর বাইরেও অনেক হিসাব থাকে। এই যেমন গত দুটি আইসিসি টুর্নামেন্টে হারের শোধ তোলার সুযোগ। ২০১৫ বিশ্বকাপেও শক্তির বিচারে অনেক এগিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু সেদিন মেলবোর্নে মাঠের খেলায় ৩০ ওভার পর্যন্ত এগিয়ে ছিল টাইগাররা। এরপরই আম্পায়ারের তিনটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। গত বছর টি২০ বিশ্বকাপে ১ রানের যন্ত্রণার হার তো কখনই ভোলা যাবে না। তবে সুখের স্মৃতিও আছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে টেন্ডুলকার-সৌরভ-দ্রাবিড়ের ভারতও যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে মাশরাফি-সাকিবরা ঠিকই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয়দের। সে স্মৃতিতে বলীয়ান হয়ে এবার গত দুটি হারের শোধ তোলার পাশাপাশি স্বপ্নের ফাইনালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ। ইম্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে কিউইদের ধসিয়ে দেওয়া এ বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না। পুরো উদ্যম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা একদিন আগেই দিয়ে রেখেছেন টাইগার কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

প্রতিপক্ষ ভারতও ব্যাপারটা ভালোমতোই জানে। তাই তো গতকাল ভারতীয় দলপতি বিরাট কোহলির মুখে বাংলাদেশের স্তুতি, ‘তারা বিশ্বের সেরা আটটি দলের একটি। অবশ্যই তারা ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাদের দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা দক্ষ, বাংলাদেশের হয়ে খেলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, অনেক আবেগ নিয়ে খেলে। জয়ের ক্ষুধাটা তাদের প্রবল। তাদের মনোভাবটা স্পষ্ট বোঝা যায়। সেদিন যেভাবে খেলল (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে), রান তাড়া করল… অসাধারণ। যে ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে বোঝা যায় তারা এখন অনেক পরিণত দল। হ্যাঁ, বাংলাদেশ এখন ভীষণ বিপজ্জনক দল।’ কোহলির অবশ্য না মেনে উপায়ও নেই। ২০১৫ সালে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের কথা তো তার ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

মাশরাফির কণ্ঠে কেবলই চাপমুক্ত হয়ে খেলার আকুতি, ‘নকআউট রাউন্ডে খেলতে হবে উপভোগের মানসিকতা নিয়ে। বাড়তি চাপ মাথায় নিলে কাজটা বরং আরও কঠিন হয়ে যায়। আমি মনে করি, সবাই যদি নির্ভার হয়ে আরেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতোই এই ম্যাচটাকে দেখি, তাহলে আমাদের পারফর্ম করতে সুবিধা হবে।’ মাশরাফির ধারণা, ওভালের মতো এজবাস্টনের উইকেটেও প্রচুর রান হবে। তবে ব্যাটিং উইকেট হলেও টাইগারদের একাদশ বদলের সম্ভাবনা খুবই কম। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের একাদশ নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ।

যার মানে চার পেসার দিয়ে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনকে কাবু করার কৌশল নিয়ে নামছে টাইগাররা। আর ব্যাটিংয়ে আজও তিনেই খেলবেন সাবি্বর রহমান। টসে জিতলে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রীতি হয়ে দাঁড়ানো ফিল্ডিং নেওয়ার কথাটা সম্ভবত আর কাউকে বলে দিতে হবে না। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে রানবন্যা কিন্তু থেমে গেছে; বরং দেখা যাচ্ছে বোলারদের দাপট। সে যাই হোক, এজবাস্টনের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা কঠিন হবে। তাই বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল হয়ে উঠতে পারে বড় রানের লড়াই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here