সুস্বাগত মাহে রমজান

0
100

untitled-5_296342নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরে আবারও মুমিনের দুয়ারে হাজির মাহে রমজানুল মোবারক। গতকাল শনিবার রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস। ইসলামের মূল পাঁচ ভিত্তির অন্যতম হলো মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা বা রোজা পালন করা।

‘রমজান’ নামে পরিচিত হিজরি বর্ষপঞ্জির নবম মাসটি খুবই মহিমান্বিত এবং অন্য মাসগুলোর তুলনায় এ মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। আর রমজান মাসের সেই আভিজাত্য ও স্বাতন্ত্র্যের মূল কারণ পবিত্র কোরআন ও সিয়ামব্রত পালন। রমজানের পুরো মাসে রোজা রাখা ফরজ এবং এ মাসেই নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। তাই এ মাসটি সব মাসের সেরা হিসেবে স্বীকৃত। আল্লাহপাক বলেন- শাহরু রামাদানাল্লাজি উনযিলা ফিহিল কোরআন। অর্থাৎ রমজান মাস, এ মাসেই অবতীর্ণ করা হয়েছে পবিত্র কোরআন। কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাসকেই পরম স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম রোজাব্রত পালনের মাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা বান্দার প্রতি মহান প্রভুর এক অতি উত্তম অনুগ্রহ।

রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, পাপাচার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। হাদিসে কুদসিতে এসেছে- আস্সাওমু লি ওয়া আনা আজযি বিহি। অর্থাৎ আল্লাহপাক বলছেন, রোজা শুধু আমার জন্য আর আমি নিজে এর প্রতিদান দেব। এ কথাটিই অন্যত্র এভাবে এসেছে যে, রোজা আমার জন্যই পালন করা হয় আর আমি নিজেই এর প্রতিদান হয়ে যাই। অর্থাৎ রোজা রাখার মাধ্যমে রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হন। এমনকি মহান আল্লাহকেই পাওয়ার যে উদগ্র বাসনা প্রত্যেক খোদাপ্রেমিক মানবের মাঝে বিরাজমান, সিয়ামব্রত পালনের মাধ্যমে সেই পরম কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিই অর্জিত হয়ে থাকে। যেমন রোজা পালনের পরিপ্রেক্ষিতে রাসূল (সা.) বলেছেন- লিস্সায়েমে ফারহাতান ফারহাতু ইন্দা ফিতরিহি ওয়া ফারহাতু ইন্দা লিকাই রাবি্বহি। অর্থাৎ রোজাদারের খুশির সময় হলো দুটি। প্রথমত, ইফতারের সময় আর দ্বিতীয়ত, পরম প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রোজাদার ব্যক্তি রোজা পালনের মধ্য দিয়ে পরম সত্তার সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন।

রোজা আল্লাহ দিয়েছেন খোদাভীতির জন্য। আগেও রোজা ফরজ ছিল। কোরআন বলছে, হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর; আশা করা যায়, তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারবে। সুতরাং রোজা পূর্বকাল থেকে প্রচলিত একটি প্রথাসিদ্ধ ইবাদত, যার মাধ্যমে প্রভুর উপাসনাকারীরা পার্থিব পঙ্কিলতা থেকে বিমুক্ত হয়ে সত্যিকারের পরহেজগারি অর্জন করার সুযোগপ্রাপ্ত হন।

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের পয়গাম নিয়ে পবিত্র মাহে রমজান সমাগত। বরকত আর পুণ্য লাভের এই মহিমাময় মাসকে তাই আমাদের উচিত কাজে লাগানো এবং এ মাসের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা। এ মাসে ইবাদতের ব্যাপারে আগ্রহ ও উদ্দীপনার সর্বোচ্চ ঘোষণাটি এসেছে মানবতার পরম বন্ধু বিশ্বনবীর (সা.) পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও কর্তব্য-নিষ্ঠার সঙ্গে মাহে রমজানের সিয়াম পালন করবে, তার জীবনের সব পাপকার্য ক্ষমার ঔদার্যে বিবেচনা করা হবে, মাফ করে দেওয়া হবে।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ব্যক্তি ও সমাজজীবনে রমজানের তাৎপর্যের প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here