সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

0
74

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম সফরে গিয়ে সীমান্তের ওপারের চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারমন। শনিবার সিকিমের নাথু-লা সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

রোববার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক টুইটার অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। এতে দেখা যায়, সিকিমের নাথু-লা সীমান্তে গিয়ে সিতারমন চীনা সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। সংক্ষিপ্ত ওই ভিডিওটিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চীনা সৈন্যদের সম্ভাষণ জানিয়ে হাতজোড় করে ‘নমস্তে’ বলতে দেখা গেছে। দোভাষীর কাজ করা এক চীনা সৈন্যকে তিনি বলেন, ‘নমস্তে! আপনি জানেন ‘নমস্তে’ কী? ধারণা করে হাসিমুখে ওই চীনা সেনা বলেন, ‘আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, ‘একে চীনা ভাষায় আপনারা কী বলেন?’ উত্তরে চীনা সৈন্য বলেন, ‘নাই হাও’।

এরপর চীনা সৈন্যরা একজনের পর একজন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘নমস্তে’ ও ‘নাই হাও’ বলে সম্ভাষণ জানান। ভিডিওটি নিয়ে করা কয়েক হাজার মন্তব্যের মধ্যে একটিতে এক ভারতীয় বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী শুধু একজন ভালো প্রশাসক না, একজন ভালো কূটনীতিকও।’ আরেক ভারতীয় বলেন, ‘চীনা ক্যাপ্টেনের জন্য ভালোবাসা। আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে শান্ত এবং সহজভাবে কথা বলেছেন তিনি। ভালো ইংরেজিও বলেছেন।’

সিকিমের সীমান্তের নিকটবর্তী ডোকলামে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা অবসানের পর থেকে ওই এলাকায় নতুন করে চীনারা কোনো উন্নয়ন কাজ করেনি- ভারত সরকারের এমন দাবির পর ওই সীমান্ত পরিদর্শনে যান সিতারমন। জুনের মাঝামাঝিতে মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ একটি এলাকায় চীনারা রাস্তা তৈরি করার সময় ভারতীয় সেনারা সিকিম সীমান্ত অতিক্রম করে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। এলাকাটি ভারতের তথাকথিত ‘চিকেন নেকের’ কাছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো দেশটির মূল অংশের সঙ্গে যে একচিলতে ভূখণ্ড দিয়ে যুক্ত তাকেই ‘চিকন নেক’ বলা হয়।

এরপর থেকে ডোকলাম মালভূমিতে দু’দেশের সৈন্যরা মাত্র ১৫০ মিটার দূরত্বে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে থাকে। চীন ও ভুটান ডোকলাম মালভূমিকে নিজের এলাকা বলে দাবি করে আসছে। ভুটানের দাবিকে সমর্থন দিচ্ছে ভারত। দু’দেশের সৈন্যরা ৭৩ দিন মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে থাকার পর দুটি দেশই সৈন্য প্রত্যাহারে সম্মত হলে উত্তেজনার অবসান হয়।