সিরিয়ায় হামলা নিয়েও আদালতের তদন্তে ট্রাম্প

0
31

untitled-57_308413যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট এবং জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে ‘প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’কে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্কাড হামলা নিয়েও এবার আদালতে তদন্তের মুখে পড়লেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৬ এপ্রিল সিরিয়ায় হঠাৎ করেই হামলার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস এই আদেশের আইনি ভিত্তি কঠোরভাবে যাচাই করেছিল কি-না কিংবা আদৌ এর আইনি ভিত্তি আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক বিচারক। স্থানীয় সময় অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এ নির্দেশ দেন।

ওয়াচডগ গ্রুপ প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (পিডিপি) এপ্রিলে হামলার পরদিনই ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্টের (এফওআইএ) আওতায় আদালতে এর আইনি ভিত্তি তদন্তের জন্য তথ্য সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানায়। ক্রিস্টোফার কুপার বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ জারি করেন। সংস্থাটিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে এই বিচারক কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন তিনটি ফেডারেল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংস্থা তিনটি হলো স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট এবং জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট।

বিচারক কুপার বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াচডগ সংস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী যুক্তি দিয়েছে। তা ছাড়া অদূর ভবিষ্যতেও ট্রাম্প প্রশাসনের সিরিয়ায় হামলা চালানোর আশঙ্কা বাদ দেওয়া যায় না। তাই সংস্থাটির তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকাণ্ডের আইনি বৈধতা যাচাইয়ে সময়মতো তথ্য না পেলে, তা মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য অবশ্যই নেতিবাচক হবে।

তার চেয়েও বড় আশঙ্কার বিষয়, কোনো ধরনের আইনি বৈধতা যাচাই ছাড়াই আবারও হামলা চালানো হতে পারে। তখন প্রতিরোধের কোনো পথ খোলা থাকবে না। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যাবে। বিচারক কুপার ট্রাম্পের পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত। প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের একজন আইনজীবী কুপারের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। কুপারের নির্দেশ জারির আগেই জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে নির্দেশ জারির পর এ বিভাগের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বিচারকের নির্দেশের আগেই বাকি দুটি ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা করতে রাজি নয় বলে জানায়। সরকারি আইনজীবীরাও কুপারকে এ নিয়ে কোনো নির্দেশ জারি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অভিবাসী তাড়াতে নয়া প্রস্তাব : অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে শিগগির নয়া আইন আনতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস। তাতে জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) ক্ষমতা প্রসারিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যাতে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের তাড়ানো যায়। এদিকে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিচারকের রায়ে আরেক দফা দুর্বল হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ছয় মুসলিম দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। ২৪ হাজারেরও বেশি শরণার্থীর জন্য নতুন করে উন্মুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের ‘দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে’ নিকটাত্মীয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন হাওয়াই আদালত। এতেই এ সুবিধা মিলছে অভিবাসীদের। তবে সরকার সে সুযোগ দ্রুত বন্ধ করে দিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here