সিরিয়ার মানুষ আসাদকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না: যুক্তরাষ্ট্র

0
77

5970a5a1804acf0d124adb4412787f14-58e3e0b08ba15আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘সিরিয়ার মানুষ দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি নির্বাচনে দাঁড়ালেও জনগণ তা মেনে নেবে না। আসাদ একজন যুদ্ধাপরাধী। দীর্ঘ সময় ধরে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি বড় বাধা। সিরিয়ার জনগণের জন্য তার শাসন বিরক্তিকর।’ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালে।

আসাদের ভবিষ্যৎ সিরিয়ার জনগণের ওপর নির্ভর করছে; মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের এমন মন্তব্যের ব্যাপারে নিক্কি হ্যালে’র অব্স্থান জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে তিনি বলেন, টিলারসনের মন্তব্যের অর্থ এই নয় যে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাশার আল-আসাদ আবারও জয়লাভ করলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে।

তিনি বলেন, আসাদের প্রতি রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। তবে আমরা এটা মনে করি না যে, সিরিয়ার জনগণ আর আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

গত সপ্তাহে আঙ্কারায় বৈঠকের পর রেক্স টিলারসন বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিরিয়ার জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার চলে যাওয়ার বিষয়ে আর জোর করবে না।

উল্লেখ্য, সিরিয়ার দীর্ঘ ছয় বছরের সংঘাত অবসানের ক্ষেত্রে আসাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে। জেনেভায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগ্রতি হয়নি। তবে জাতিসংঘের কূটনীতিকরা শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতির আশা একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন না।

এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক আয়রাল্ট এ আহ্বান জানান। ইদলিবের এ হামলাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ইদলিবে সম্ভাব্য রাসায়নিক গ্যাস হামলা সংঘটিত হয়। হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ১১ জন শিশুও রয়েছে যাদের বয়স আট বছরের কম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এবং চিকিৎসা কর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হতাহতের সবশেষ সংখ্যা নিশ্চিত করে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, ওই হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তবে ইদলিবের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আহতের সংখ্যা ৩০০ বলে উল্লেখ করেছে।

মেডিক্যাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, হামলার কারণে অনেকের শ্বাসরুদ্ধ হয়, কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, কারও কারও আবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে আসে। ওই মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, এটি রাসায়নিক গ্যাস হামলা ছিল বলে আলামত মিলেছে।

হামলার পর এর নিন্দা জানান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক আয়রাল্ট। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সকালে ইদলিব প্রদেশে নতুন বিশেষ করে গুরুতর রকমের একটি রাসায়নিক হামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এ ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’

এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে তিনি আয়রাল্ট বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মুখে দাঁড়িয়ে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, তারা যেন দায়িত্ব থেকে সরে না আসে। এ কথাটি মাথায় রেখে আমি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করছি।’

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায় তা স্পষ্ট নয়। ছয় বছরের সংঘাত চলাকালে রাসায়নিক হামলা চালানোর অভিযোগে সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় ওই খসড়া প্রস্তাবটিকে ‘পুরোপুরি অযথার্থ’ উল্লেখ করে ভেটো দেয় রাশিয়া। চীনও রাশিয়াকে সমর্থন জানিয়েছিল।

মঙ্গলবারের এ হামলাকে ২০১৩ সালের আগস্টে চালানো সারিন গ্যাস হামলা পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ রাসায়নিক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ওই হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হন। সে হামলার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছিল সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীরা। সূত্র: রয়টার্স, টাইম, বিবিসি।