‘সাম্প্রদায়িক ইতিহাস থাকলে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন’

0
238

60861_02নির্বাচন কেন্দ্রীক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দাবি জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলানগরস্থ ইসি কার্যালয়ে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান কমিটির প্রতিনিধি দল।

যশোরের চৌগাছায় কিছু হিন্দু পরিবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হওয়ার পর ইসির কাছে এসেছে কমিটি। বৈঠক শেষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাংবাদিকদের জানান, সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন সচেতন রয়েছে। তবে মাঠ কর্মকর্তারাই ভোটের মূল দায়িত্বে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের সাম্প্রদায়িকতার সংশ্লিষ্টতা পেলে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “মাঠে দায়িত্বে থাকা ভোটের মূল কাজটা করেন ডিসি, এসপি ও ওসি। এদের মনিটরিং করতে হবে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড দেখে, তাদের কাজে সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস থাকলে ভোটের দায়িত্ব থেকে এসব কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কেন্দ্রীক সহিংতা প্রতিরোধে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন বলে জানান তিনি।

সিইসি বরাতদিয়ে মানিক বলেন, “তারা এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। ভোটাধিকার নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যেসব অভিযোগ আসছে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।

সিইসির কাছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি লিখিত আবেদনে সাত দফা দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির জানান, ইউপি ভোটে সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এ পর্যন্ত চার ধাপে অন্তত পক্ষে ৮০জন ব্যক্তি নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আক্রমণের তথ্যও গণমাধ্যমে এসেছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে গত ২০ মে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ওই সব এলাকায় গিয়ে সহিংসতার শিকার শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিয়েছে।

শাহরিয়ার বলেন, “জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীলতা দেখিয়েছে। ওই সব কর্মকর্তাদের বদলি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধদের দায়িত্ব দিতে হবে। জামায়াতীরা যাতে সহিংতা করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিতে হবে।”

তিনি জানান, জামায়াতীরা কৌশলে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়নও নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সঠিক ব্যক্তিদের প্রার্থী দিতে সতর্ক থাকতে হবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এ প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল ও ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here