সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের ইন্তেকাল

0
67

ঢাকা: বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। প্রবীণ এই রাজনীতিক দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাবেক চার বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

তিনি আরও জানান, শামসুল ইসলাম বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ১/১১ সরকারের সময় দলের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

এম শামসুল ইসলামের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি  আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন গভীর শোক এবং মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা, বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নে নেয়া হবে। সেখানে বাদ জুমা জানাজা শেষে এম শামসুল ইসলামকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এম শামসুল ইসলাম। ১৯৯১ সালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শামসুল ইসলামের স্ত্রী ২০১৬ সালে মারা যান। বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম ‘জি-নাইন’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ঢাকা চেম্বারর্স অব কর্মার্সের নেতা। ছোট ছেলে প্রকৌশলী।

এম শামসুল ইসলাম ১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সদস্য ছিলেন।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শামসুল ইসলাম। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন।

শামসুল ইসলাম জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার হাইকমিশনার ছিলেন। ১৯৮১ সালে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

বিএনপির বিগত কমিটিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন শামসুল ইসলাম। কিন্তু, গত কাউন্সিলের আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

শামসুল ইসলাম বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ বক্ষব্যাধি সমিতি, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, লায়ন্স ফাউন্ডেশন, বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন।

১৯৯১ সালের মার্চ থেকে ১৯৯১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী এবং একই সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সরকারের ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শামসুল ইসলাম। এরপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here