সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশ, নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী

0
218

pm-jugantor_41906_1489318888নিউজ ডেস্ক: ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হল দু’টি সাবমেরিন।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমির জেটি সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীন থেকে কেনা দু’টি সাবমেরিনের কমিশনিং অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শত্রুবাহিনীকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তাঁর নির্দেশে দেশকে শত্রুমুক্ত করলেন-স্বাধীন করলেন।

তিনি বলেন, ‘সেই মার্চেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে নৌবাহিনীতে যুক্ত হল সাবমেরিন, যা বিশ্বে মাত্র অল্প ক’টি দেশ যুক্ত হতে পেরেছে। আমরা সেই কাতারে যুক্ত হতে পারলাম, এজন্য গর্ববোধ করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। যারা সমুদ্র, আকাশ এবং স্থলভাগে শত্রুমুক্ত করতে পারঙ্গম। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে নৌবাহিনীতে অনেক আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সংযুক্ত করেছি।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতে আশ্রয় নেয়াদের পুনর্বাসন করেছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নৌবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষা নীতির আলোকেই আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলছি, আধুনিকায়ন করছি।

সাবমেরিনের প্রথম ক্রুদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাস বীরের ইতিহাস। কাজেই আমি বিশ্বাস করি আপনারা নিজের মেধা ও পেশাগত কশরতের মাধ্যমে নৌবাহিনীর এই আধুনিক অভিযাত্রায় সফল হবেন। দেশের সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও প্রতিরক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। তবে আমরা যদি আক্রান্ত হই তাহলে যেন উপযুক্ত জবাব দিতে পারি তার জন্য আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। শক্তি বজায় থাকলেই উন্নতি ত্বরান্নিত হবে এবং নিরাপদে থাকব সেটি আমরা বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর যারা সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশ ও জাতির জন্য কিছুই করেনি। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমার অধিকার সংরক্ষণে সক্ষম হয়েছি। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার অধিকার ছিনিয়ে এনেছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূ-খণ্ড নিরাপদ রাখব। এই ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে আমরা কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে দেব না। সেজন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।’

‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এর আগে ১৪ নভেম্বর এই সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে চীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here