সাক্ষীকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টায় যুদ্ধাপরাধীর কারাদণ্ড

0
112

former_congolese_vice_president_jean-pierre_bemba__42819_1490191010আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্তত ১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে কঙ্গোর ভাইস প্রেসিডেন্ট জিন পিয়ার বেম্বা এবং তার চার আইনজীবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

এর মধ্যে বেম্বাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।

আর বেম্বার আইনজীবী আইমি কিলোলোকে বিশ্বাসভঙ্গ এবং আইনজীবী হিসেবে সুযোগের অপব্যবহার করায় আড়াই বছর কারাদণ্ড এবং তিন লাখ ইউরো জরিমানা করেছেন আদালত।

এছাড়া বেম্বার প্রধান আইনজীবী জিন জেকস মেনগেনডাকে দুই বছর, সাফাই সাক্ষী নার্সিস আরিদোকে ১১ মাস এবং কঙ্গোর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফিদেল বাবালাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানী হেগে এ রায় ঘোষণা করে আদালত।

এর আগে বেম্বাকে ২০০২-২০০৩ সালে নিজের মিলিশিয়া বাহিনীর যোদ্ধা পাঠিয়ে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে যুদ্ধাপরাধ করার দায়ে গত বছরের জুনে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল এ আদালত।

এরপর গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্তত ১৪ জন মূল সাক্ষীকে ঘুষ দেয়ার জন্যও দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। বুধবার ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাক্ষীদের ঘুষ দেয়ার ঘটনার জন্ম দেন বেম্বা।

ঘুষের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মূল সাক্ষীদের প্রভাবিত করেন এবং তার মূল বিচারের সময় তাদের দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ান।

বেম্বার নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়া বাহিনী কঙ্গো লিবারেশন মুভমেন্টের (এমএলসি) সেনারা ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে ধর্ষণ-হত্যা-নিপীড়নের মতো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে।

পরে জোসেফ কাবিলার নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন মনোনীত হন বেম্বা।

২০০৬ সালের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করে কাবিলার কাছে হেরে যান ব্যবসায়ী থেকে যুদ্ধবাজ নেতায় পরিণত হওয়া বেম্বা। পরে তিনি ইউরোপে পালিয়ে যান।

পরে ২০০৮ সালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে আটক করে বেম্বাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বেম্বার মিলিশিয়া বাহিনী এমএলসি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়ে বর্তমানে কঙ্গোর জাতীয় পরিষদে দ্বিতীয় বৃহৎ বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY