সাকিবদের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই ফ্লোরিডায়

0
21

স্পোর্টস ডেস্ক: টি ২০কে অনেকেই ‘ফান ক্রিকেট’ ভাবেন। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে বিনোদন অগ্রাধিকার পেলেও যেকোনো ফরম্যাটেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ব্যাপারটা হাসি-ঠাট্টার উপলক্ষ হতে পারে না। সাকিবরা হারলে হারে গোটা বাংলাদেশ। সেই হার প্রতিরোধহীন হলে ক্ষুণ্ণ হয় দেশের ভাবমূর্তি। একইভাবে দল জিতলে শত সংকটের মাঝেও আন্দোলিত হয় গোটা দেশ।

মার্কিন মুলুকে লাল-সবুজের জয়কেতন উড়িয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশবাসীর মুখে আরেকবার হাসি ফোটানোর সুযোগ সাকিবদের সামনে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলার রোমাঞ্চ গায়ে মেখেই সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে টাইগারদের। ফ্লোরিডার লডারহিলে বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৬টায় তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি ২০তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। পরদিন একই ভেন্যুতে একই সময়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ।

সেন্ট কিটসে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম টি ২০তে সাত উইকেটে হেরে সফরের উইন্ডিজ পর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ। বাকি দুই ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হলেও ফ্লোরিডা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কার্যত ঘরের মাঠই। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু লডারহিলের সেন্ট্রাল ব্রোয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) খেলা। এই মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও শতভাগ জয়ের রেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড চারটি করে এবং শ্রীলংকা ও ভারত দুটি করে আন্তর্জাতিক টি ২০ খেলেছে।

এবার পঞ্চম দল হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। অচেনা ফ্লোরিডায় অবশ্য চেনা আবহেই খেলবে বাংলাদেশ। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব প্রদেশ থেকেও লাল-সবুজের সমর্থনে অনেকে ছুটে এসেছেন ফ্লোরিডায়। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে গ্যালারির এই সমর্থন দলকে উজ্জীবিত করবে বলে বিশ্বাস অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের, ‘সবার জন্যই সফরটা রোমাঞ্চকর হওয়া উচিত। এখানে অনেক বাংলাদেশি দর্শক থাকবেন। সবার জন্যই সময়টা মজার হবে বলে আমি মনে করি।’

দলের অন্যদের জন্য ফ্লোরিডা একেবারে অচেনা ভেন্যু হলেও এখানে সিপিএলের পাঁচটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিবের। তবে বৃহস্পতিবার সেখানে প্রথম অনুশীলনে গিয়ে এবারের উইকেট একটু ভিন্ন মনে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘শেষবার সিপিএলে এখানে যখন খেলেছি, তার চেয়ে এবারের উইকেট বেশ আলাদা। অনুশীলনের পর বোঝা যাবে উইকেট আসলে কেমন।’

উইকেট যেমনই হোক, সবার আগে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। প্রথম টি ২০তে কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। প্রথম ওভারেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। এমন বিস্মরণযোগ্য শুরুর পর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে শেষ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৪৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে বৃষ্টিতে উইন্ডিজের জন্য লক্ষ্যটা আরও সহজ হয়ে যায়। আন্দ্রে রাসেলের খুনে ব্যাটিংয়ে হেসেখেলেই জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশ দলে রাসেল, লুইস বা স্যামুয়েলসের মতো বিধ্বংসী কোনো হার্ডহিটার নেই।

উইন্ডিজের পাওয়ার ক্রিকেটের জবাব তাই মাথা খাটিয়েই দিতে হবে বাংলাদেশকে। সেজন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। শুরুটা ভালো না হলে টি ২০তে মোমেন্টাম খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাটিংয়ে উন্নতির কোনো বিকল্প দেখছেন না সাকিব, ‘প্রথম ম্যাচে আরও রান করার সুযোগ ছিল। কিছু কারণে তা পারিনি। ওই জায়গাগুলোয় উন্নতি করতে পারলে আরও ভালো করা সম্ভব। উইকেট যদি আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো আচরণ করে, তাহলে বেশ বড় সংগ্রহই গড়তে হবে আমাদের। জিততে হলে ভালো শুরুর কোনো বিকল্প নেই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here