সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না: ফখরুল

0
87

fakhrul_samakal_288654ঢাকা: নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচন জনগণের কাছে ‘গ্রহণযোগ্যতা’ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিএনপির ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণের নবনির্বাচিত নেতাদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সহায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে। একটি নিরপেক্ষ নিবাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতেই হবে। অন্যথায় কখনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আর ভবিষ্যতে জনগণ একতরফা নির্বাচন গ্রহণ করবে না। দেশবাসী একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বর্তমান সরকারকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘একনায়কতান্ত্রিক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ খুব ভালো করেই জানেন, বিএনপি কী করতে পারে, কী করতে পারে না। অতীতে তা প্রমাণ হয়েছে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দেশে একটি নির্বাচন করে দেখাক আওয়ামী লীগ। তখন বুঝবে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কারা।

বিএনপি চেয়ারপারসন হাওর অঞ্চলে যাননি কেন— প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সবখানে গেছেন, যখন দরকার হবে আবার যাবেন। বিএনপি সবসময় জনগণের পাশেই আছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হাওর অঞ্চলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগে আমাদের কোনো টিমকে সেখানে যেতে দিচ্ছে না।’

মহানগরে কমিটি নিয়ে বিভক্তি আছে কি-না জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কমিটি নিয়ে বির্তক কিছু নেই। আমাদের সিনিয়র লিডারদের নেতৃত্বে মহানগরের নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। তারা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই দুইটি কমিটি হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে, আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।’ এ জন্য দুই কমিটির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগরে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং উত্তরের সহসভাপতি মুন্সি বজলূল বাসিত আনজু ও  সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব প্রয়াত নেতার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। উত্তরের নবনির্বাচিত সভাপতি এম এ কাইয়ুম গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে আছেন। এজন্য কাইয়ুম এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে।

অন্য  নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, মীর সরাফত আলী সপু, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ মহানগরের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আরও শত শত নেতাকর্মী জিয়ার কবর উপস্থিত হন। তারাও প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন। উপস্থিত নেতকর্মীদের হাতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি ছাড়াও মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল ও উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুমের রঙিন পোস্টার নিয়ে মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিণের ৭০ সদস্যের এবং উত্তরের ৬৪ সদস্যের এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে সাদেক হোসেন খোকা ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বাধীন মহানগর কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। এরপর ওই বছর ১৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক করে ৫২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি।