সরানো হলো সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য

0
104

vaskarjo_295761ঢাকা: সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত সেই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাস্কর্য সরানোর কাজ শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি রাতে সমকালকে জানান, ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের জাদুঘরে রাখা হবে। ভাস্কর্য অপসারণের সময় উপস্থিত ছিলেন এর স্থপতি মৃণাল হক। গত বছরের ডিসেম্বরে তার তত্ত্বাবধানেই এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল।

গতকাল রাতে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ২২ থেকে ২৫ জন শ্রমিক ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ করছেন। পাশে রাখা ছিল ছোট ট্রাক। কয়েকজন শ্রমিক হাতুড়ি, শাবল ও হ্যামার দিয়ে ভাস্কর্যের উপরের অংশ অক্ষত রেখে নিচের পিলার ভাঙছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের বাইরে অপেক্ষমাণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের বাগানপরিচর্যাকারী আবুল কাশেম সমকালকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ দেখতে পান ট্রাকে করে শ্রমিকরা সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশ করছেন। এর কিছুক্ষণ পরই শ্রমিকরা ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতির উপস্থিতিতে ‘ফুলকোর্ট’ সভা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিষয়ক একটি বিধি অনুমোদনের পাশাপাশি ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা খাস কামরায় আমাকে ডেকেছিলেন। এসময় ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের বারের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। আমরা সবাই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিই। প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে আমি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চাই না।

ভাস্কর্য অপসারণের সময় মৃণাল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবই জানি_ কেন এই ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে। কার নির্দেশে তা হচ্ছে। তবে কিছুই বলবো না।’

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত। অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

LEAVE A REPLY