‘সরকারের অনেক মন্ত্রীরাও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চায় না’

0
209

14570489_1762249437359220_8958698674051003610_nনিউজ ডেস্ক: যে করেই হোক রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতেই হবে, এটা যেন সরকারের একটা লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে! কিন্তু এই রামপাল প্রকল্পই সুন্দরবনের ইনু সিস্টেম (বাস্তুসংস্থান) বিপন্নের মূল হাতিয়ার হতে যাচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের এত শঙ্কার পরেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পক্ষে নানা উদ্ভট যুক্তি একের পর এক দিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রকৃতপক্ষে সরকারের ভীতরে অনেক মন্ত্রীও এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় আলাপকালে এমনটাই জানান তারা। কিছু সুবিধা লোভীর প্ররোচনায় সরকার পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির কাজটি করতে যাচ্ছে।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বন্ধের দাবিতে’ বিশেষজ্ঞ মতামত শীর্ষক এক গোল টেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ নামক একটি সংগঠনের আয়োজনে আলোচনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতুল্লাহ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল মতিন, প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘সুন্দরবন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি, একই সাথে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে যে বায়ু, পানি দূষণ হবে তা সুন্দরবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু এর জন্য প্রকৃতি পরিবেশের ধ্বংস সাধন কোন বিবেকসম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না।’

‘সম্প্রতি সময়ে কিছু ভুল ও অবৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না’ এটি কে অপপ্রচার দাবি করে এর তীব্র নিন্দাও জানান বিশ্লেষকরা। তারা আরো বলেন, ‘বিজ্ঞান দিয়ে এই অপপ্রচারের জবাব আমরা বিজ্ঞান দিয়েই দিব। সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎ কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

এসময় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার একচেটিয়া ভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও যখন ক্ষতি শুরু হবে দিকবেদিক খুঁজে পাবে তখন। প্রকৃত পক্ষে সাধারণ মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুল এর ক্ষতির শিকার হবে। তাই আমাদের আহবান থাকবে সরকার শীঘ্রই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে দাঁড়াবে।

উল্লেখ, ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ‌্যোগে বাগেরহাটের রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ‌্যুৎ কেন্দ্র করছে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে ২০১২ সালে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।