সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি

0
208

07192016_06_SHANGSKRITIK_JOTনিউইয়র্ক থেকে: বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইটালিসহ বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার নিন্দা-প্রতিবাদ এবং এহেন বর্বরতার বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টির অভিপ্রায়ে নিউইয়র্কে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠান হলো ১৭ জুলাই রোববার। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিল শিশু-কিশোররাও। তাদের মুখায়বে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে। জ্যাকসন হাইটসে পড়ন্ত বিকেলে লাল-সবুজ পতাকা হাতে নারী-পুরুষের এ সমাগম বৈচিত্রমন্ডিত হয়ে উঠে ‘হৃদয়ে আাঁকি বাংলাদেশ’ কর্মসূচির পরিপূরক এ দুর্লভ দৃশ্যে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শিশুদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গোটা মানবতার ধিক্কার আর নিন্দার স্পষ্ট প্রকাশ ঘটলো।

‘তোমাদের মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে দেয়’ শীর্ষক ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে ‘সন্ত্রাস রুখে দিতে দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে শোক লিপি পাঠ করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন। এতে বলা হয়, ‘গুলশানে সংঘটিত পাশবিক হত্যাযজ্ঞ রক্তাক্ত করেছে গোটা দেশ। দেশের মানুষ আজ শোকে মুহ্যমান, বেদনায় বিহ্বল, দু:খে কাতর। একইসাথে মানুষ ঘটনার নৃশংসতায় স্তম্ভিত, পাশবিকতার রূপ দেখে বিচলিত। নিষ্ঠুর হত্যালীলার শিকার জাপান, ইটালি, ভারত ও বাংলাদেশের মানব-মানবী এবং আত্মাহুতি দানকারি পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি প্রবাসীরা ব্যক্ত করছে পরম সমবেদনা। সেই সাথে ধর্মের নামে এমন চরম অধার্মিকতায় মানুষ আজ ক্ষুব্ধ।

ধর্মের অপব্যাখ্যা ঘটিয়ে বিকৃত মানসিকতার জন্মদান ও লালন কোন পরিণতির দিকে দেশ ও সমাজকে টেনে নিতে পারে তা আমরা দেখেছি ১৯৭১ এ, যখন ইসলাম রক্ষার নামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এদেশে ঘটিয়েছিল নৃশংস গণহত্যা। ৩০ লাখ বাঙালির রক্তের বিনিময়ে এবং মানবিকতা ও সম্প্রীতির আদর্শে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা প্রতিষ্ঠা করি স্বাধীন বাংলাদেশ।’ উল্লেখ করা হয়, ‘আজ বাংলাদেশকে আবার দংশন করছে ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যার নতুন রূপ, যা বাইরের শক্তির প্ররোচনা ও দেশীয় গোষ্ঠির সমর্থনে ক্রমে নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়ে উঠছে। এই ধর্মান্ধতা তরুণ সমাজের একাংশকে বিভ্রান্ত করে মানব থেকে দানকে রুপান্তরিত করছে এবং এর জঘন্য প্রকাশ ঘটেছে গুলশানে।’ ‘আর নয় মৃত্যুমিছিল, আর নয় ধর্মের নামে জঙ্গী মতাদর্শের প্রশ্রয়দান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খুঁজে বের করতে হবে জঙ্গী মতাদর্শের প্রচার সংগঠনের কেন্দ্রসমূহ, তাদের অস্ত্র ও অর্থের নেটওয়ার্ক, দেশী-বিদেশী মদদদাতাদের। সেই সাথে সমাজদেহ থেকে জঙ্গিবাদের বিষ নির্মূল করতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকান্ড বিপুলভাবে জোরদার করতে হবে’-বলা হয় শোক লিপিতে।

এর আগে ভূমিকা বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মিথুন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ রুখে দিতে চাই দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি। এজন্যেই শুরু হলো ‘রুখবোই জঙ্গিবাদ, মানবতা হার মানে না’ শীর্ষক ‘হৃদয়ে আাঁকি বাংলাদেশ’কর্মসূচি। এ সময় প্রবাসের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীরা বাংলাদেশের মানচিত্রের একটি বাউন্ডারি তৈরি করেন। প্রতিবাদী গান আর কবিতার মধ্য দিয়ে তারা মানচিত্রে রঙ ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এ সময় জঙ্গীবাদকে ঘৃণার বাক্য ছুড়ে দিয়েছেন তারা। ধর্মের নামে সন্ত্রাসে লিপ্তদের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক ঐক্য গড়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য দেন বেলাল বেগ, কাজী আরিফ, সৈয়দ মুহাম্মদ উল্লাহ, হাসান ফেরদৌস, শীতাংশু গুহ, নবেন্দু বিকাশ দত্ত, মাহফুজুর রহমান, ফাহিম রেজা নূর, গোপাল সান্যাল, আলম বকুল প্রমুখ। অংশগ্রহণকারি বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডার ফোরামের কোষাধ্যক্ষ ও ডেফডিল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম এস এ মনসুর আহমেদ, সাপ্তাহিক বাঙালি সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মতলুব আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, অভিনেত্রী নায়লা আজাদ নূপুর, সঙ্গীতশিল্পী-অভিনেতা মাহমুদুল হক দুলু, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট শরাফ সরকার, সুব্রত বিশ্বাস, এডভোকেট মোর্শেদা জামান, নবেন্দু দত্ত, তৈয়বুর রহমান টনি, মিনহাজ আহমেদ, নাট্যাভিনেত্রী রওশন আরা হোসেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্কের মাহফুজা হাসান, মিল্টন আহমেদ, উদীচির সাবিনা হাই উর্বি, কান্তা আবির, নুসরাত তন্বী, প্রতিমা সরকার, সৈয়দ আদনান, শুভ রায়, গোপন সাহা, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের আহবায়ক রাশেদ আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক এ বি এম সিদ্দিক প্রমুখ।মানচিত্রে তুলিতে আঁচড় দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন তাজুল ইমাম, গোপন সাহা ও স্বীকৃতি বড়ুয়া ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here