সংসদে সুশীলদের কড়া সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

0
91

ঢাকা: জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুশীল সমাজের কড়া সমালোচনা করেছেন।বুধবার ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি ও ফখরুল ইমামের পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্য। কিছু লোক আছে চোখে দেখেও দেখে না, কানেও শোনে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির তারা সরকারের কোনো উন্নয়নই দেখতে পায় না। গানেই তো আছে হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ। তাদের ব্যাপারে কোনো কথা বলে লাভ নেই। আমাদের লক্ষ্য একটাই মানুষ ভালো আছে কি না?

মাঝে মাঝে সুশীলদের আচরণ দেখে গাধার কথা মনে পড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণের কাছে যেতে পারেন না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোট পেয়ে এই সংসদে বসতে হয় ও সরকার গঠন করতে হয়। কিন্তু এই একটা শ্রেণি আছে তারা কিন্তু জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা ক্ষমতার বাঁকা পথ খোঁজে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক সব সময় থাকে যদি অবৈধভাবে বা মার্শাল ‘ল’ জারির মাধ্যমে কোনো পক্ষ ক্ষমতায় আসে আর সেই সুযোগে যদি তাদের গুরুত্ব বাড়ে। আর ক্ষমতাধররা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু লোককে খুঁজে নেয়। আর কিছু লোক আছে নিজেদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকেন। তারা গায়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বসে থাকেন ইউজ মি অর্থাৎ আমাকে ব্যবহার কর।

তিনি বলেন, আমি জানি না সুশীলের ব্যাখাটা কি, অর্থ কি বা কিভাবে কোন তত্ত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল, সেটা তখন দেখা দেয় যখন তারা কোনো কিছু দেখেনও না শোনেনও না, বোঝেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল তা আমি জানি না।

এর আগে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একা চলতে চাই না। সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। তবে একটা কথা আছে। কবি বলেছেন ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল একলা চলরে….একবার নয় বারবার বলেছেন একলা চল, একলা চল, একলা চলরে। তবে একজনকে তো হাল ধরতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি একজনই চালায়, তবে সঠিকভাবে চালাতে হবে। নৌকা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একজন মাঝি লাগে। সেই মাঝি যদি সঠিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় বা পারে তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। আর যদি সঠিকভাবে না চালাতে পারে তাহলে কিন্তু মাঝখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছাক সেটাই আমরা চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই অর্জন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি বলে সম্ভব হয়েছে।

এ সময় বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল গঠনমূলক বক্তব্য রেখেছে, আলোচনা করছে। অন্তত বিএনপি থাকতে যখন বিরোধী দলে ছিল তখন যে খিস্তি-খাউর ছিল, হতো যেসব আলাপ-আলোচনা হতো কান পেতে শোনা যেত না। এখন সেসব নেই। অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা করছে বিরোধী দল। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে কারিগরি শিক্ষা ও কম্পিউটার শিক্ষার বিস্তার, শিল্পায়ন ও জনশক্তি রফতানি এবং ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে বিশাল জনসংখ্যা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তবে এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে চান তারা। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। সেভাবেই সবাই এর সুফল পাচ্ছে।

ফখরুল ইমামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে জনগণের এই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।