সংসদে মুখোমুখি আ’লীগ-জাপা

0
151

asfঢাকা: রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে সংসদে। রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারে সরকারি উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ জানান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমান। পরে পাল্টা বক্তব্যে সরকার দলীয় চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এই ধরণের বক্তব্যকে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে এরশাদের শাসনামলের মইজুদ্দিন হত্যা মামলার আসামিকে অব্যহতি দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

২৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিতর্ক হয়। তাদের বক্তব্যের মাঝে স্পিকারের চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, সরকার চাইলে যে কোনো মামলা প্রত্যাহার করতে পারে যদি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড থাকে।

ফজলুর রহমান গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের খবরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আবারও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের পর এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার না হলেও ওই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়। এসব মামলার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলে করা। আবার ওইসব মামলার বাদী সরকার নিজেই।

রিপোর্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় ৩৪টি হত্যা মামলাসহ নতুন করে ২০৬টি আলোচিত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে দেড় শতাধিক মামলা আওয়ামী লীগের পর পর দুই মেয়াদের সরকারের আমলে করা। গত বছরে করা মামলাও প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের দায়ের করা মামলা সরকারই কি করে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে, তা নিয়ে সবাই বিষ্মিত। সেসব মামলার মধ্যে ধর্ষণের মামলা, নাশকতার মামলা, ঘুষ লেনদেনের মামলা সরকারি টাকা আত্মসাতের মামলা, ডাকাতি মামলা, অবৈধভাবে নিজ অস্ত্র দখলে রাখার মামলা, কালোবাজারি, অপহরণ, জালিয়াতি, বোমা, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের গত মেয়াদেও (২০০৯-২০১৩) ৭ হাজার ১৯৮টি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে আদালত থেকে অনেকগুলো প্রত্যাহারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে রাজনৈতিক বিচেনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হলে যাদের পরিবারের সদস্য খুন হয়েছে তারা কি বিচার পাবে না? এই ৩৪টি হত্যা মামলা কেউ না কেউ তো খুন হয়েছে।

এসময় ডেপুটি স্পিকার পীর ফজলুর রহমানকে কয়েকবার থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন এবং বসতে বলেন। এক পর্যায়ে পীর ফজলুর রহমান তার বক্তব্য শেষ করলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনি একটি খবরের কাগজের ওপর ভিত্তি করে এই কথাগুলো বলছেন। আপনার জানা উচিত, না জানা থাকলে জেনে যান।

তিনি বলেন, সরকার যে কোন মামলা প্রত্যাহার করতে পারে যদি তার কাছে সেই ধরণের সুনির্দিষ্ট কোনো গ্রাউন্ড থাকে। প্রত্যাহার করতে হলে যে আদালতের মামলা, সেই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে আবেদন করতে হয়। সরকার সুপারিশ করলেই কোর্ট মামলা প্রত্যাহার করবেই এটা কোন দিনই হয় না। ‘কোর্ট মে রিজেকটিভ’। তবে আপনি যে কথাটি উল্লেখ করেছেন যারা খুন হয়েছে তার পরিবার কি বিচার পাবে না এটি যথার্থই। আদালত যে রায় দেবে আপনার উপর যেমন বাইন্ডিং, সরকারের উপরই তেমনি বাইন্ডিং। সুতরাং সুপারিশ করলেই সেই মামলা প্রত্যাহারিত হবে এটা বলা যায় না। তাই অনুমান ভিত্তিক কোন বক্তব্য না রাখাই শ্রেয়।

এরপর পীর ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরোধীতা করে সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ বলেন, বিরোধীদলে থাকলে অনেক কথাই বলা যায়। পত্রিকার খবর দিয়ে অনেক খবর দেয়া যায়, কোনটা সত্য কোনটা অসত্য এটা যাচাই করার সুযোগ থাকে না। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন গাজীপুরের মইজদ্দিন ভাইয়ের হত্যাকারী আজমকে ওই জায়গায় গিয়ে তাকে ভাই বলে পরিচয় করে দিয়ে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

আজ উনি ৩৪টি মামলার কথা বলেছেন, পত্রিকা দেখে এই সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করে বিবৃতি দেয়া কোনমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। বরং বিএনপি’র আমলে ও এরশাদের আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা স্বাধীনতা বিরোধীদের মামলা কোন মামলা সুষ্ঠভাবে তদন্ত করেননি। উল্টো আসামিদের রাষ্ট্রপতি এমপি পদে সুযোগ দিয়েছিল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে আছে, জনগণের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ আগেও করেনি, আগামিতেও করবে না। যারা এই কাজটি করেছেন তারাই আজ নিজের লজ্জা ঢাকার জন্য আওয়ামী লীগের কাঁধে দোষ দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here