ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সত্যায়িত রায় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

0
83

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

বুধবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তবে তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিনই আবেদনটি করা হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ করে সুপ্রিম কোর্ট গত ১ আগস্ট সকালে ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

এর আগে গত ৩ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায়টি দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

রায়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের (২), (৩), (৪), (৫), (৬) ও (৭) নম্বর ক্লজ পুনর্বহালের মাধ্যমে বিচারক অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা বলবৎ করেন সর্বোচ্চ আদালত।

সেইসঙ্গে অনুমোদন করেন বিচারপতিদের জন্য ৩৯ দফা আচরণবিধি, যা মূল রায়ে উল্লেখ রয়েছে। ওই আচরণবিধি না মানলে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত ৬ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথম সভাও করেছেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।

রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি রয়েছে। এ জন্য এই রায়কে যতটা সম্ভব প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেয়া হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়।

সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।

আপিল শুনানি শুরুর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ১২ জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন।

গত ৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসে উভয়পক্ষ আপিল শুনানি ও যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন এবং ১০ জন অ্যামিকাস কিউরি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু তার মতামত উপস্থাপন করেন।

সাত কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং রিট আবেদনকারী আইনজীবীদের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন আপিল বিভাগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here