ষোড়শ সংশোধনীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সরকারের

0
49

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বহু আলোচিত রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দায়ের করা হয়।

রবিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) ফাইল করা হয়েছে। আবেদনের নম্বর ৭৫১। এতে ৯৪টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। শুনানি শেষে ১৩ জুলাই আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন। পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়।

ওই রায়ে ছুটিতে থাকা বর্তমান প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, সংসদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মন্তব্য করেন। পরে ওই রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে সরকার। ওই প্রস্তাব পাসের আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপিসহ ১৮ জন বক্তৃতা করেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ২ অক্টোবর অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। যাওয়ার আগমুহূর্তে প্রধান বিচারপতি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অসুস্থ নন।

পরদিন ১৪ অক্টোবর এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানায়, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এরপর আপিল বিভাগের বিচারপতিরা জানান, ওইসব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ তিনি না দিতে পারায় সহকর্মীরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পদত্যাগপত্র জমা দেন ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।