শ্রমিক নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় সৌদি বাদশাহকে ঢাকার ধন্যবাদ

0
132
204035bd-saudi_kalerkantho_picঢাকা: বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় বাংলাদেশ সরকার আজ সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সাউদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আজ এখানে এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতি সৌদি বাদশাহ’র এই মহানুভবতার জন্য এবং দেশের প্রতি অব্যাহত সমর্থন দানের জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গতকাল বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই বিবৃতি দেয়। শুধু গৃহকর্মী ছাড়া অন্য সকল শ্রমিক নিয়োগে গত সাত বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা ছিল।
এর আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মোশি রিয়াদ থেকে টেলিফোনে বাসসকে বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সাত বছর পর সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গতকাল এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশের দূত বলেন, এটি জুন মাসে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি সুফল। তিনি বলেন, এর ফলে সৌদি আরবে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানির একটি বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, অদক্ষ, এবং চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, কৃষি ও নিমার্ণ শ্রমিকের মতো পেশাজীবীসহ সবধরনের শ্রমিক সৌদি আরবে যাবার পথ সুগম হলো।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মোশি বলেন, বাংলাদেশ থেকে রিক্রুটমেন্টের চ্যানেল উন্মুক্ত হওয়া আমাদের জন্য একটি বড় খবর। তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন তবে গত বছরে এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয় এবং এর ফলে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে গৃহপরিচারিকা পাঠানো সম্ভব হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মোশি বলেন, সৌদি আরব ইতোমধ্যেই গতকাল থেকে তাদের কম্পিউটার খোলা রেখেছে এবং এখন সৌদি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রিক্রুটিংয়ের জন্য আবেদন করবে।
রাষ্ট্রদূত মোশি আরো বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকরা খুবই বুদ্ধিমান, কঠোর পরিশ্রমী এবং অধিক প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় ভারত ও শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশ অধিক শ্রমিক পাঠাতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফরকালে বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন ট্রেনিং সেন্টার এবং সার্টিফিকেশনে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে সৌদি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানান এবং এ ক্ষেত্রে তাদেরকে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সৌদি বিনিয়োগকারিরা এখন ঢাকা, চট্রগ্রাম, মানিকগঞ্জ,ও ময়মনসিংহে চারটি ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য একটি চুক্তি করছে।
বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত ১৩ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার নারী গৃহকর্মী রয়েছে। তিনি বলেন, পুরুষ গৃহকর্মীদের ভিসা জুন থেকে ইস্যু শুরু হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ গৃহকর্মী সৌদি আরবে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসে সৌদি আরবে গড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশী নারী শ্রমিক আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here