শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

0
96

sahid-minar-_40143_1487654434ঢাকা: মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার চাইতে গিয়ে ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে যে রাজপথ, সেই বেদনাকে ধারণ করে মহান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে সব মত-পথ যেন একাকার হয়ে মিশেছে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ভেদাভেদ ভুলে নারী, পুরুষ বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক হাতে নিয়ে ধীরপায়ে যাওয়ার পালা। কণ্ঠে সবার চির অম্লান সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি…’ ভাষা শহীদদের প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে নিবেদিত শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে বর্ণিল হয়ে উঠেছে শহীদ মিনারের বেদি।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গর্ব আর শোকের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে জাতি।

মুখে একুশের আলপনা, মাথায় বাংলাদেশের পতাকা, বুকে কালো ব্যাজ, হাতে ফুল। দীপ্ত পায়ে সিঁড়ি ভেঙে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সব শ্রেণি পেশার মানুষ।

ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশের শহীদ মিনারেও একুশের প্রথম প্রহর থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয় একুশের প্রথম প্রহর থেকেই। ভাষা শহীদদের স্মরণে এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

বরাবরের মতোই এবারও মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয় সোমবার বিকালেই। রাজধানীর দোয়েল চত্বর, চানখাঁরপুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, পলাশী মোড় থেকে শহীদ মিনারগামী পথগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এসব পথে পথে ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন চারুকলা অনুষদের নবীন শিল্পীরা।

আজ সরকারি ছুটির দিন। দেশের সর্বত্রই আজ প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে শহীদদের স্মৃতির প্রতি। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পাকিস্তানি শাসকদের গুলিতে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি প্রথম ফুল দিয়ে দিবসের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাদের স্বাগত জানান। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর শহীদ বেদিতে ফুল দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অ্যাটর্নি জেনারেল, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারসহ বিদেশী মিশনের কূটনীতিকরা।

এরপর শ্রদ্ধা জানান, আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি, সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, একে আজাদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, সফররত নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরজ বেন্দে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা।

পরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাতীয় ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

রাত সাড়ে ১২টার পর শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here