শিশুর সামনে তার ওজন নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন

0
289

child_1অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের দেশের শিশুর অস্বাভাবিক ওজনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক অল্প বয়সেই দরকারের চাইতে অনেক বেশি ওজনের অধিকারী হয়ে নিজের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তারা। সাধারণ এই বিষয়টি চলে যাচ্ছে অসুখের পর্যায়ে। কেবল শিশু নয়, সেইসাথে তার পরিবারকেও এই সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু কীইবা করার থাকে এক্ষেত্রে অভিভাবকের?

উভয়সংকটে পড়ে যান তারা এক্ষেত্রে। যদি কিছু না বলা হয় শিশুকে তাহলে সে তার অতিরিক্ত ওজন সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে না। আবার কিছু বললেও সেটা শিশুর মানসিক সুস্থতাকে ব্যাহত করে। তাহলে ঠিক কোন ধরণের ব্যবহার এক্ষেত্রে শিশুদের সাথে করা উচিত তার বাবা-মায়ের?

সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয় যে, এক্ষেত্রে শিশুদের সামনে তার ওজন নিয়ে কোন কথা না বলাটাই শ্রেয়। ইটিং এন্ড ওয়েট ডিজঅর্ডারে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয় যে, এসব ব্যাপারে নিজেদের প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত মেদযুক্ত দেহ নিয়ে কারো কোন কথা শিশুকে, বিশেষ করে মেয়ে শিশুকে, নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তার আধিকরী করে তোলে। সেইসাথে তার ভেতরে এক ধরণের হতাশা কাজ করে। ফলে নিজের যে ওজন নিয়ে মোটেই কোন চিন্তা করার দরকার ছিলনা তার সেটাই হয়ে ওঠে তার জন্যে প্রচন্ড কষ্টকর একটি বিষয়।

এছাড়া অন্য একটি গবেষণায় বাবা-মায়ের সমালোচনামূলক উক্তির দ্বারা শিশুদের ওজন আরো বেশি বেড়ে যাওয়া প্রবণতা বৃদ্ধি পায় বলে জানান গবেষকেরা। পরীক্ষায় ১০ বছর বয়সী প্রায় এক হাজার মেয়ে শিশুর কাছে জানতে চান তারা তাদের ওজনের ব্যাপারে নিজেদের মতামত সম্পর্কে। তাদের ভেতরে প্রায় ৬০ শতাংশ মেয়ে জানায় যে, তাদেরকে কখনো না কখনো বয়সে বড় কেউ বলেছে যে তারা মোটা। ৯ বছর পর ঠিক সেই মেয়েগুলোর ভেতরেই অতিরিক্ত মোটা হওয়ার প্রবণতা দেখা যায় যাদেরকে ছোটবেলায় মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই কথাটির।

দি গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বোস্টনে অবস্থিত নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেচেল রডরেজ জানান, অভিভাবকদের উচিত না তাদের শিশুকে ওজন নিয়ে সমালোচনামূলক কথা বলা, খাবারে বাধা-নিষেধ তৈরি করে দেওয়া। এতে করে শিশুদের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের পরিমাণ কমে যায়।

তাহলে ঠিক কিভাবে আপনার শিশুর অতিরিক্ত ওজনের সমস্যাকে সামলাবেন?

১. খাবারের মাধ্যমে শাস্তি বা পুরষ্কার দেওয়া বন্ধ করুন

অনেক অভিভাবকই তাদের শিশুকে ভালো কাজের পুরষ্কার হিসেবে বা খারাপ কাজের শাস্তি হিসেবে খাবার দিয়ে থাকেন। কিন্তু এখন থেকে এই অভ্যাসটি বদলে ফেলুন।

২. রান্নায় সাহায্য নিন

শিশুকে রান্নার সময় সাহায্য করতে বলুন। একটু একটু করে তাকে জানান যে কোন খাবার খেলে পুষ্টি বেশি পাওয়া যায়। কোনটার ক্যালোরি বেশি বা কম। এতে করে সে নিজ থেকেই সচেতন হবে।

৩. খাবারের পদ্ধতিকে বদলে ফেলুন

শিশুকে না জানতে দিয়েই তাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দিন। অনেক বড় বিরতি না দিয়ে মাঝে মাঝেই খাবার খেতে দিন। এতে করে অন্যসব ক্যালোরিযুক্ত খাবারের জন্যে তার পেটে জায়গা থাকবেনা।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের মন এবং মস্তিষ্ক তৈরি হয়। গড়ে ওঠে একটু একটু করে। তাই শিশু থাকাকালীন সময়ে অভিভাবকের অবশ্যই উচিত এমন কোন কথা বা মন্তব্য না করা যেগুলো শিশুকে মানসিকভাবে আঘাত করে। তাই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে কৌশলে মেনে চলুন এই উপায়গুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here