শিশুর এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রোধ করবেন যেভাবে

0
238

babyবেশীরভাগ শিশুই দিনে বেশ কয়েকবার থুতু ফেলে, কিন্তু অন্যান্য আরো কিছু উপসর্গের সাথে যখন বমি হয় তখন তা এসিড রিফ্লাক্সের কারণে হতে পারে যাকে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)  ও বলে। হ্যাঁ GERD শুধু বয়স্কদেরই হয়না নবজাতক এবং শিশুদের ও হতে পারে। শিশুদের এসিড রিফ্লাক্সের লক্ষণগুলো হচ্ছে :

–   প্রায়ই বমি করা

–   কাশি হয় যা সহজে যায়না

–   কন্ঠরোধ হয়ে আসে বলে খেতে চায়না

–   খাওয়ার সময় বা খাওয়ার পড়ে কাঁদে

–   বুক জ্বলে, গ্যাস হয় এবং পেটে ব্যথা হয়

যদি পিতামাতা শিশুকে খাওয়ানোর সঠিক কৌশল জানে তাহলে এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থেকে শিশুকে মুক্ত রাখতে পারেন। খাওয়ার পর পাকস্থলীতে যখন খাবার পৌছায় তখন খাদ্যনালীর স্ফিংটার পাকস্থলীর এসিডকে উপরের দিকে আসতে বাঁধা দেয়। কোন কারণে যদি পাকস্থলীর এসিড উপরের দিকে চলে আসে তাহলে বুকজ্বালা করে।

যদি শিশুর ব্যথা অনেক বেশি হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করানো প্রয়োজন। সাধারণত ১ বছর বয়সের পর শিশুরা এই সমস্যাটি থেকে বাহির হয়ে আসে। কারণ তখন তারা খাওয়ার পর বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে কাটাতে পারে।

ছোট শিশুরা বেশিরভাগ সময় শুয়ে কাটায় বলে এসিড প্রতিপ্রবাহের সমস্যাটি বেশি হয়। তাই এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যাটি প্রতিহত করার জন্য শিশুকে খাওয়ানোর পর অন্তত আধাঘণ্টা বসিয়ে রাখুন।

আমিষ জাতীয় খাবারের আকার ছোট করুন এবং একবারে বেশি খাওয়ানোর পরিবর্তে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খাওয়ান। যদি অনেক বেশি দুধ পান করানো হয় তাহলে বেশিরভাগ সময়েই শিশু বমি করে দিতে পারে। অল্প পরিমাণে দুধ পান করানো হলে শিশুর হজম করতে সুবিধা হয়, ফলে এসিড রিফ্লাক্সও হয়না।

খাওয়ার পর শিশুকে ঘুম পাড়ানো হলে বাম কাতে শোয়ান। এতে পাকস্থলী থেকে খাবার উপরের দিকে উঠে আসবেনা। শিশুকে খাওয়ানোর অন্তত ১ ঘণ্টা পর শিশুকে ঘুম পাড়ান।

উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণের পরেও যদি এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দূর না হয় তাহলে ঔষধ খাওয়াতে হবে। বয়স্কদের এসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণত অ্যান্টাসিড খেতে বলা হয়। কিন্তু এই ঔষধটি শিশুদের ক্ষেত্রে তেমন কাজ করেনা। বরং শিশুদের বেশীদিন সেবন করানো হলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প কিছুদিন খাওয়ানো হয়। শিশুদের এসিড রিফ্লাক্স অসুখের নিরাময়ের জন্য দুই শ্রেণীর ঔষধ ব্যবহার করা হয়। হিস্টামিন-২ রিসেপ্টর এন্টাগনিস্ট পাকস্থলীর এসিড উৎপাদনকারী কোষকে ব্লক করে। আর প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর পাকস্থলীর এসিডের নিঃসরণ শেষ পর্যায়ে ব্লক করে। এই উভয় প্রকার ঔষধই উপকারী হলেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তাই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এগুলো সেবন করানো উচিৎ নয়।

বেশীরভাগ শিশুরই এসিড রিফ্লাক্সের লক্ষণ তেমনভাবে প্রকাশ পায়না যে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু শিশুর মুখে যদি প্রায়ই টক স্বাদ থাকে, উপরের পেটে বা বুকে ব্যথা হয় তাহলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here