শান্তিচুক্তির ৪৮টি শর্ত বাস্তবায়ন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

0
69

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি আমরা করেছি তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের। এরই মধ্যে চুক্তির ৭২ শর্তের ৪৮টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ১৫টি শর্তেরও আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি ৯টি শর্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা কথা বলে অনেকে পাহাড়িদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাহাড়িরা সহজ-সরল প্রকৃতির। সেই সুযোগে তাদের নানা বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে তাদের উসকে দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২ দশক পূর্তি উপলক্ষে

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবন থেকে তিন পার্বত্য জেলাবাসীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিদিন খুন-খারাবি এবং রক্তপাতের ঘটনা ঘটত। কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য অতীতের কোনো সরকার উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিদ্রোহ দমনের জন্য সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, মাত্র কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন করতে পেরেছি। এ চুক্তির ফলে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে এ ধরনের চুক্তি অনেক হয়েছে। একমাত্র আমরা এত কম সময়ের মধ্যে চুক্তির প্রায় অধিকাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শান্তিচুক্তির চরম বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে শান্তিবাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের দিন হরতাল দিয়েছিল বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শান্তিচুক্তি হলে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন খালেদা জিয়া। এমনকি ভারতের পতাকা বানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উড়িয়েও ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে আসায় বিএনপির সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।

পার্বত্যবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতে অশান্ত থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই পিছিয়ে পড়া পার্বত্য অঞ্চলকে উন্নয়নের ধারায় আনতে আমরা ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি। রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ করে দুর্গম অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। উপজাতীয়দের নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাসপাতাল নির্মাণসহ চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হল ভূমি। এ কারণে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের জটিল ধারাগুলো সংশোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি চিংহ্লামং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, ফিরোজা বেগম চিনু, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে দেয়া ভাষণ শেষে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট। কনসার্টে মমতাজ বেগম, কনক চাঁপা, চিত্রনায়িকা মৌসুমীসহ জাতীয় ও স্থানীয় কণ্ঠশিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here