শরীরে শক্তি যোগায় খেজুর

0
221
health-benefits-of-dates_295251খেজুর সারা বছর পাওয়া গেলেও আমাদের দেশে রমজান মাস ছাড়া ফলটি কমই খাওয়া হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন? এই ফলটি পুষ্টির এক অসীম উৎস। খেজুরকে বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে পুষ্টিকর ফল।
সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরের অনেক রোগ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
আসুন জেনে নিই, খেজুরের কিছু স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ:
শরীরে শক্তি যোগায় খেজুর

শরীরে শক্তি যোগায়
খেজুরে আছে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ যা আপনাকে তাৎক্ষনিকভাবে শরীরে শক্তি উৎপাদন করে। শরীর খুব ক্লান্ত থাকলে  খেজুর  শরীরের ক্লান্তি দূর করে নিমিষেই চাঙ্গা করে তোলে। পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী।
রক্ত স্বল্পতা 
শরীর রক্তস্বল্পতায় ভুগলে নিয়মিত খেজুর খাওয়া যেতে পারে। খেজুর রক্ত উৎপাদন করে দেহের রক্তের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
কোলেস্টেরল নেই
খেজুরে কোনো কোলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না। ফলে আপনি সহজেই খেজুর খাওয়া শুরু করে অন্যান্য ক্ষতিকর ও চর্বি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে পারবেন। খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে 
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাক হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। ডায়রিয়া হলে কয়েকটি খেজুর শরীরকে সুস্থ্য করতে সাহায্য করে।
শরীরে শক্তি যোগায় খেজুর

ওজন কমে 
খেজুর শরীরের শর্করার চাহিদাও পূরণ করে থাকে। ফলে আপনি শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করলেও শরীরে শর্করার অভাব হয় না। তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে খেজুর।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুকিটা কমে যায় অনেক।
রুচি বাড়ায়
খাবার গ্রহণের প্রতি অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। খেজুর মুখের রুটি বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে সংবেদনশীল অবস্থা থেকে দ্রুত সুস্থ্য করে।
শরীরে শক্তি যোগায় খেজুর

ত্বক ভালো রাখে
খেজুরের ফ্রুক্টোজ ত্বকের লাবণ্য বাড়ায়, ত্বক সুস্থ্য রাখে।
চোখ ভালো রাখে
ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফল চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে খেজুর।
হজমসহায়ক
মুখের লালাকে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে খেজুর।
শরীরে শক্তি যোগায় খেজুর

মস্তিস্কের জন্য দরকারী
খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে খেজুর।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য
৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। এসময় গর্ভবতী মায়েদের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে। তখন খেজুর মায়েদের শরীরের এই দুর্বলতা কাটাতে অনেক সাহায্য করে এবং ডেলিভারীর পর মায়েদের অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে ও খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
হাড় ও দাঁত ভালো রাখে
খনিজ পদার্থ দৈহিক পুষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে। খেজুর দেহে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে।
আয়রণের উৎস
খেজুর লৌহসমৃদ্ধ ফল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে লৌহিত কণিকার প্রধান উপাদানের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খেজুর লৌহসমৃদ্ধ বলে এই রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের নার্ভ সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, খেজুরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম বিদ্যমান থাকে যা মানুষের ষ্ট্রোক হওয়ার ভয়াবহতাকে ৪০% কমিয়ে দেয়।
অন্যতম বিকল্প খাবার
খেজুরে রয়েছে ৭৭.৫% কার্বহাইড্রেট, যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধা নিবারণে বিকল্প খাদ্য হিসেবে আমরা ২-৪টি খেজুর খাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বোল্ড স্কাই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here