শরণার্থীদের বের করে দিতে ট্রাম্পের আদেশ, মার্কিন আদালতের নাকচ

0
101

b125d5fd214392b42260ef6937d50f93-C_02আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আদালতের সামনে হোঁচট খেল নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ। ভিসাধারীদের ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা শরণার্থীদের বের করে দেওয়ার আদেশের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক। আদেশটিকে চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) গত শনিবার মামলা করলে নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক অ্যান ডোনেলি এই স্থগিতাদেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।

এত কিছুর পরও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড়। নির্বাহী আদেশের পক্ষে গতকালও যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি। এক টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের এখন সুরক্ষিত সীমান্ত এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। পুরো ইউরোপজুড়ে কী ঘটছে দেখুন, ভয়ংকর বিশৃঙ্খল অবস্থা!’

পরে আরেক টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতি আমরা চলতে দিতে পারি না!’ এদিকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ৩ লাখ ২৫ হাজার লোকের মধ্যে ১০৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ট্রাম্প গত শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য কড়াকড়ি আরোপ করেন। নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এর মধ্যে সিরিয়া বাদে বাকি ছয় দেশের ক্ষেত্রে আগামী ৯০ দিন কোনো ভিসা দেওয়া হবে না। সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’।

নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকদুই ইরাকি ব্যক্তির পক্ষে মামলাটি করেছে এসিএলইউ। মামলায় এসিএলইউ জানায়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশরত ১০০ থেকে ২০০ ভিসাধারী মানুষ বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।
যে দুই ব্যক্তির পক্ষে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, এই (নির্বাহী) আদেশের ফলে ভুক্তভোগীদের ‘জোরালো এবং অপূরণীয় ক্ষতির’ ঝুঁকি রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি সংবিধানসম্মত কি না, তা যেহেতু বিচারকের স্থগিতাদেশের বিষয়বস্তু নয়, তাই বিমানবন্দরে আটকা পড়া ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে শনিবার মাত্র ১ শতাংশের ওপর নতুন নির্বাহী আদেশের প্রভাব পড়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আরও জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা বা জনগণের সুরক্ষার খাতিরে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় ভিসা বাতিলের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সংরক্ষণ করে। ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশের কারণে নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা সাত দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে মধ্য আকাশে থাকা যাত্রীদের বিমানবন্দরে অবতরণ করা মাত্র আটক করা হয়।

এই যাত্রীদের কাছে বৈধ ভিসা বা অভিবাসনের অনুমতি থাকলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি আদালতে ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বোস্টনের এক বিচারক। এ ছাড়া ভার্জিনিয়া ও সিয়াটলেও বিচারকদের আদালতে মামলা হয়েছে।

তবে বিক্ষোভ, আদালতের মামলা সত্ত্বেও শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা (নির্বাহী আদেশ) খুব ভালোভাবে কাজে দিচ্ছে। আপনারা বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় তা দেখবেন।’ এদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন কয়েকজন বিশ্বনেতা। ইরান সরকার নিজের দেশে মার্কিন নাগরিকদের নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়ে বসেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই যদিও প্রয়োজনীয়, তারপরও সামগ্রিক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মানুষের পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের এক মুখপাত্র বলেছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে একমত নন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টুইটারে বলেছেন, নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও যুদ্ধ থেকে বাঁচতে পলায়নরত ব্যক্তিদের কানাডায় স্বাগতম।