শক্তির জন্য রসুন!

0
243

untitled-3_165968দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রত্যেকেই রসুন খাই। তবে আমরা কি জানি রসুন আমাদের দেহেরে কি উপকারে আসে। এই রসুনই সবচেয়ে উপকারি খাবারের মধ্যে একটি।

রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে নিশ্চই আপনি অবাক হবেন। তাহলে চলুন পাঠক আজকে আমরা জেনে নেই রসুনের নানান গুনাগুন।

হাজার হাজার বছর ধরে রসুন বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মধ্যে অনেক ধরনের ঔষধি কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি শুধুমাত্র রন্ধন সম্পর্কিত মশলাই নয়, অনেক ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা এর সাথে জড়িত। যখন মিশরের গিজা পিরামিড তৈরি হয় সেই সময় থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজে রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে যুদ্ধের সময় গ্রিক ও রোমান সৈন্যরা এবং আফ্রিকান কৃষকেরা শক্তির জন্য রসুন খেত। এছাড়া খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ শতাব্দী থেকে চীনারা রসুন ব্যবহার করতো।

রসুনের মাঝে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি৬ এবং সি। এছাড়া রয়েছে খাদ্য আঁশ, খনিজ পদার্থ এবং ম্যাঙ্গানিজ।কিছু গবেষনায় দেখা যায় যে রসুন রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, ঠাণ্ডার সমস্যা কমায়। এটা জীবানুনাশক হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্যাংরিন প্রতিরোধে ব্যবহার করা হতো। করোনারী হৃদ রোগ, হার্ট অ্যাটাক, অ্যাথেরোসক্লেরেসিস এবং কয়েক ধরনের ক্যান্সার নিরাময় করতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুন শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, হজমের সমস্যা এবং দুর্বলতা প্রতিরোধে সহায়ক। এখানে রসুন খাওয়ার ফলে পাওয়া যায় এমন কিছু জনপ্রিয় স্বাস্থ্য উপকা্রিতা দেয়া হলো যা আমরা অনেকেই জানি না।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে- নিয়মিত ভাবে রসুন খাওয়ার ফলে তা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ঈস্ট, ফাঙ্গাল ও কৃমির আক্রমণ প্রতিরোধ করে। তাজা রসুন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া যেমন ই-কোলাই, স্যামোনেলা অ্যানটেরাইটিডিস ইত্যাদি বিনাশের মাধ্যমে খাদ্যে বিষক্রিয়া প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে বলে মনে করা হয়। এইসবই সম্ভব কেবলমাত্র রসুনে থাকা প্রাকৃতিক পদার্থের উপস্থিতির কারনে।

ত্বকের প্রদাহ ও চুলকানি প্রতিরোধে- রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ভাইরাল গুনাগুনের জন্য ত্বকের প্রদাহজনিত যেকোনো চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত উপকারি। Anjoene নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ রসুনে থাকার ফলে তা ত্বকের রিংওয়ার্ম এবং অ্যাথলেট ফুট জাতীয় ফাঙ্গাল ইনফেকশন ভালো করে। এজন্য তাজা রসুন ছেঁচে নিয়ে দিনে একবার বা দুইবার আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষন রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করে- রসুনে থাকা Anjoene নামক রাসায়নিক পদার্থটি দেহের রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধও করে থাকে। তাই যারা বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগে এবং অন্যান্য রক্ত জমাট বাধা প্রবণ রোগে ভোগেন তাদের জন্য খুবই ভালো। তবে রসুনের এই বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক সময় অপারেশনের পরে রক্তপাত বেশি হয়।

ঔষধি গুনাগুন- রসুনে রয়েছে Allicin নামক একটি যৌগ যার রয়েছে শক্তিশালী বিভিন্ন ঔষধি বৈশিষ্ট্য এবং এটি রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধের জন্যও দায়ী। Allicin আমাদের পরিপাক নালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং এর গুরুত্বপূর্ণ জৈব গুনাগুন প্রকাশ করে যেমন আমাদের দেহের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে- রসুনে থাকা Allicin রক্তের এনজিওটেনসিন ২ (এমন একটি প্রোটিন যা দেহের রক্তচাপ উঠানামার জন্য জন্য দায়ী) এর ক্ষতিকর ক্রিয়াতে বাধা দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুনের পলিসালফাইড রক্তের ধমনীকে প্রসারিত করে যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে প্রতিদিনের খাবার রসুন রাখতে হবে। এছাড়া নিয়মিতভাবে যদি খালি পেতে রসুন খাওয়া যায় তাহলে সেটাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এটা খুবই উপকারি যদিও এভাবে খাওয়াটা এতটা মুখরোচক নয়।

অ্যালার্জি প্রতিরোধে- রসুনের মাঝে থাকা কিছু যৌগ যেমন diallyl sulphide ও thiacremonone এর কারনে রসুনের রয়েছে অ্যান্টিআর্থ্রাইটিক গুনাগুন। এই যৌগগুলোর কারনে রসুন অ্যালার্জি জনিত শ্বাসনালীর প্রদাহ নিরাময় করতে সহায়তা করে। কাঁচা রসুনের রস ব্যবহারের ফলে পোকার কামড় বা র‍্যাশের কারনে যে চুলকানির সৃষ্টি হয় সেটা কমিয়ে দেয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে- রসুনে diallyl sulphide এর উপস্থিতির কারনে এর রয়েছে অ্যান্টিক্যান্সার গুনাগুন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায় যে এই diallyl sulphide ক্যান্সার সেলকে রূপান্তরে বাধা দেয়।

নিঃসন্দেহে এটা বলা যায় যে রসুনের প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে কিন্তু তা থাকা সত্ত্বেও সবকিছুরই যেমন ভালো দিকের পাশপাশি কিছু খারাপ দিক থাকে রসুনেরও তেমনি কিছু রয়েছে যা আমাদের জেনে রাখা উচিত। তাই সেগুলোও এখানে উল্লেখ করা হলো

মুখে অপ্রীতিকর গন্ধের সৃষ্টি- রসুনের মূল উপাদান হচ্ছে Allicin যা বিভিন্ন ঔষধি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হলেও এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধের জন্য দায়ী। এর কারনে মুখে ও দেহে অপ্রীতিকর গন্ধের সৃষ্টি হয়।

অ্যালার্জির সৃষ্টি- রসুনে কারো কারো ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসবের লক্ষণ হচ্ছে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, মুখে ঘা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা।

গর্ভকালে নিরাপদ নয়- রসুনের সাপ্লিমেন্টের রোগ নিরাময়ক বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এটা মনে রাখা প্রয়োজন এই সাপ্লিমেন্ট রক্তের প্লেটলেট এর মোট পরিমানকে কমিয়ে দেয় যার ফলে এটা গর্ভবতি নারীদের ক্ষেত্রে মোটেও নিরাপদ নয়। কারন এর ফলে গর্ভকালে এবং সন্তান প্রসবের সময়ে রক্তপাতের পরিমান বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঔষধের প্রতিক্রিয়া- যখন কোন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়া হয় তখন বেশি মাত্রায় রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে কারন কিছু কিছু ঔষধের কার্যকারিতাকে রশুন প্রভাবিত করে।

ত্বকের প্রদাহ- শুনতে অবাক হওয়ার মতো হলেও রসুনের কারনে মাঝে মাঝে ত্বকে পোড়া বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়। কাঁচা রসুন ব্যবহার করলে বা খেলে দেহের ভেতরে বা বাইরের ত্বকে পোড়ার সৃষ্টি হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here