লর্ডস বলেই রোমাঞ্চিত তামিম

0
45

স্পোর্টস ডেস্ক: কয়েকদিন আগে এক আড্ডায় তামিম ইকবাল হঠাৎ জানতে চেয়েছিলেন, লর্ডসে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করলে কী অনার্স বোর্ডে নাম ওঠে? তিনিও জানতেন, লর্ডসের অনার্স বোর্ডে শুধু টেস্টে সেঞ্চুরি করলেই নাম ওঠে।

কিন্তু ক্ষণিকের জন্য তা ভুলে গিয়েছিলেন। আসলে লর্ডসের রোমাঞ্চ তামিমকে আলাদাভাবে ছুঁয়ে যায়। ২০১০ সালে চোট নিয়েও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট তীর্থে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম।

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলতে পেরে স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল তার। এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারেই শুধু নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটেই সেটি হয়ে আছে গৌরবময় এক অধ্যায়।

আবারও সেই মাঠে খেলবেন তিনি। এবার টি ২০ ফরম্যাটে বিশ্ব একাদশের হয়ে। আবার লর্ডসে খেলা নিয়ে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তামিম বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য গর্বের ব্যাপার হবে এটা (লর্ডসে বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলা)।

সাধারণত টিভিতে দেখেছি লর্ডসে বিশ্ব একাদশের খেলা হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ থেকে দু’জন সেখানে প্রতিনিধিত্ব করব। এটা বড় ব্যাপার। চেষ্টা থাকবে যেন মনে রাখার মতো ম্যাচ খেলতে পারি।’

গত বছর হারিকেন আরমা ও মারিয়ার আঘাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কারে তহবিল গঠনের জন্য একটি চ্যারিটি টি ২০ ম্যাচ আয়োজন করেছে আইসিসি। ৩১ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্ব একাদশের ম্যাচটি হবে লর্ডসে।

ওই ম্যাচে বিশ্ব একাদশের হয়ে তামিমের সঙ্গে খেলবেন বাংলাদেশের আরেক নক্ষত্র সাকিব আল হাসানও। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ লর্ডসে খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

আগামী বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে সব দলই একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপপর্বে একেকটি দল ম্যাচ খেলবে নয়টি করে। কয়েকদিন আগে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি।

বিশ্বকাপের ভাবনা নিয়ে তামিম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে খুবই রোমাঞ্চিত। একটা টুর্নামেন্টে সবার সঙ্গে খেলা। যদি কোনো দল শিরোপা জিততে চায় তাহলে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সেই দলকে ভালো খেলতে হবে। প্রতিটি দলকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লম্বা সময় ধরে অনেক ম্যাচ জিততে হবে। এটা চ্যালেঞ্জিং হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি খেলতে (বিশ্বকাপে) উন্মুখ। গ্রুপ থাকলে বোঝা যায় ক’টা ম্যাচ আমাদের জিততে হবে এবং কোয়ালিফাই করতে। গ্রুপে এক-দুইটা ম্যাচ জিতলে কোয়ালিফাই করা সম্ভব। কিন্তু এখানে হয়তো পাঁচ-ছয়টা ম্যাচ জিততে হবে কোয়ালিফাই করতে হলে। বিশ্বকাপের এখনও এক বছর আছে। এ টুর্নামেন্ট যদি আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই তাহলে এ সময়ে যে সিরিজগুলো আছে, সেগুলোতে ভালো খেলতে হবে। যদি ভালো খেলি, সিরিজ জিতি তবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাওয়া যাবে।’

শ্রীলংকায় নিদাহাস ট্রফির সময় ইনজুরিতে পড়েছিলেন তামিম। এখন তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে ১৩ মে।

তামিমের ধারণা, তার আগেই তিনি সুস্থ হয় উঠবেন। তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচটা রানিং সেশনের পর বুঝতে পারব ফিট কিনা। রানিংয়ের গতি যখন বাড়াব তখন বলতে পারব ব্যথা আছে কি নেই। আশা করি ক্যাম্প শুরুর আগে ফিট হয়ে যাব।’

নতুন এফটিপিতে বাংলাদেশের সামনে অনেক খেলা। তামিম মনে করছেন, ভালো পারফরম্যান্সের কারণেই বাংলাদেশ এত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here