লন্ডনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মী

0
64

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে দেশের রাজনীতিতে চলছে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এ সফর শেষে বেগম জিয়ার দেশে ফেরা না ফেরা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলসহ অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের অনেকের ধারনা মামলা-মোকদ্দমায় শিগগির সাজা হয়ে যেতে পারে ভেবেই বেগম জিয়া আগেভাগেই লন্ডনে পালিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই ব্যক্তিগত সফর নিয়ে যারা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করার বৃথা চেষ্টা করছেন তারা কখনো সফল হবে না জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। তাদের দাবি, দীর্ঘ দিন পর দলীয় প্রধানের এই সফর দলের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

তারা বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর করেছেন। চিকিৎসা শেষ হলেই তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরবেন এবং হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।

সুত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বেগম জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করছেন। বেগম জিয়ার এই সফরে শুধু মা-ছেলের সাক্ষাতই নয়, এটা দলের প্রধান ও দ্বিতীয় প্রধানের মধ্যে সাক্ষাত।লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সাথে দল নিয়ে সাংগঠনিক কমিটি, আগামী নির্বাচন, সহায়ক সরকারের রুপরেখা, সাংগঠনিক আলোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন খালেদা জিয়া।

জানা গেছে, রাজনীতির অংশ হিসেবে লন্ডন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। সব মিলিয়ে প্রায় দুই মাস লন্ডন সফর শেষে খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের নেত্রী চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রুপরেখা দিবেন। এই সহায়ক সরকার নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার যারা বিশিষ্ট আছেন, যারা বিষয়টি বোঝে তাদের সবার সাথে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সকলের মত নিয়েই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি শুধু সহায়ক সরকারের রুপরেখাই নয়, রুপরেখা অর্জনের যে লড়াই। সে লড়াইয়ে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে কেননা আমাদের এ প্রস্তাব সচেতন জনগণের ও জনগণের স্বার্থে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম জিয়া দেশের বাহিরে আছেন। উনি আসলে আমরা রুপরেখা দিয়ে দিবো। তাছাড়া আমাদের রুপরেখা একেবারে সম্পন্নের দিকে এগিয়েছে।সহায়ক সরকারের রুপরেখার মূল বিষয় হচ্ছে দলীয় সরকারের বাহিরে একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। এটার একাদিক উদাহরণ আমরা তুলে ধরবো। আগে যে ভাবে নির্বাচন হয়েছে, অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, ঠিক তা না কিন্তু প্রায় একই রকম। এই বিষয় নিয়ে আমরা সরকারের সাথে আলোচনা করে রুপরেখা দিবো। অর্থাৎ আমাদের মূল বিষয় হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন।