রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা বাড়িয়েছে ইউনিসেফ

0
71

নিউজ ডেস্ক: দেশের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে জরুরি সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এছাড়া, কক্সবাজার জেলার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও জরুরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বন্যা ও উদ্বাস্তু পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি শারীরিক ও মানসিক আঘাতের মুখে পড়তে হচ্ছে শিশুদের। ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, ‘বন্যা বা উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার মতো যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সহিংসতা, নির্যাতন, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে শিশুরা। বাংলাদেশের বন্যা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় কাজ করবে জাতিসংঘের এই সংস্থা।

দেশের বন্যাদুর্গত ১৫ লাখ মানুষের কাছে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, জেরি ক্যান ও ব্লিচিং পাউডার পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করছে ইউনিসেফ। এছাড়া, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজও করে যাচ্ছে ইউনিসেফ।

এদিকে, কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারদের আশ্রয় ও তাদের চাহিদা মেটাতে কাজ করছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তারা এরই মধ্যে রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোরদের বিনোদনের সুবিধা রেখে আটটি শিশুবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। এছাড়া, উদ্বাস্তু হয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর কাছে বিশুদ্ধ পানি ও টিকাদান কর্মসূচি পৌঁছে দিতেও কাজ করছে সংস্থাটি। ওই এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য নিরাপদ টয়লেট সুবিধা দিতেও কাজ চলছে।

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। তাদের জন্য চলমান সহায়তা কার্যক্রমতে আরও বেগবান করতে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিসেফ। বিশেষত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের জন্য তারা স্থানীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। শিশুদের জন্য গড়ে তোলা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে এরই মধ্যে ২২৬টি রোহিঙ্গা শিশুকে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদেরও এসব আশ্রয়কেন্দ্র থেকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের চলমান এই বন্যা ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে ইউনিসেফ ৫০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহের জন্য কাজ করছে।