রোকেয়া স্মরণিতে গাড়ির গতিরোধ করে অপহরণ করা হয় মুবাশ্বারকে

0
37

ঢাকা: নিখোঁজ হওয়ার ৪৪ দিন পর বাড়ি ফিরে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত ১ টার দিকে তিনি রাজধানীর বনশ্রীর বাসায় ফিরেন।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা দিকে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ওই দিন (নিখোঁজের দিন) আমি উবারে করে রোকেয়া স্মরণি দিয়ে আগারগাঁও যাচ্ছিলাম। রোকেয়া স্মরণিতে আমার গাড়ির গতিরোধ করা হয় এবং চোখে-মুখে মলম জাতীয় কিছু লাগিয়ে দেয়। এরপর আমি আর কিছু জানি না। আমার যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি একটি কক্ষের মধ্যে বন্দি।’

কী কারণে আপনাকে অপাহরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করেন -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা (অপহরণকারীরা) হয়তো ভেবেছিল আমি অনেক ধনী, টাকা-পয়সার মালিক।’

এর আগে আজ সকালে মুবাশ্বারের বাবা মোতাহার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে কে বা কারা মুবাশ্বারকে রাজধানীর বিমান বন্দর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে একটি সিএনজি নিয়ে বাসায় পৌঁছেছেন তিনি।

এর আগে সকালে মুবাশ্বারের বোন তামান্না তাসমিন ফেসবুকে নিজের ওয়ালে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, আল্লাহতালার অশেষ রহমতে গতকাল দিবাগত রাত ১টায় আমার ভাইয়া সুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরেছে!

গত ৭ নভেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে সরকারের এটুআই প্রকল্পের একটি সভায় অংশ নিতে যান সিজার। সেখান থেকে বাসার উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ওইদিনই গভীর রাতে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সিজারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন।

জিডিতে বলা হয়, ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বাসা থেকে বেরিয়ে সিজার তার কর্মস্থল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। নিয়মিত কাজ শেষ করে বিকেলে তিনি বের হয়ে যান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক সিজার এক সময় সাংবাদিকতাও করেছেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন। সিজার সম্প্রতি সমাজে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে গবেষণা করছিলেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বাসায় ফিরে আসেন নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস। দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন পর তাকে পাওয়া যায়। গত ১০ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকেই উৎপল দাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উৎপলের বাবা চিত্ত রঞ্জন দাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here