রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধান চায় বেইজিং

0
50

ঢাকা: রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধান চায় চীন। এক্ষেত্রে চীন সহায়তা দেবে। রোহিঙ্গা সংকটকালে বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করেছে চীন।

শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ কথা বলেন।

মিয়ানমার সফরের আগে শনিবার বাংলাদেশে আসেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং। দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।

বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে- এমন বার্তা দেয়ার জন্যই ওয়াংয়ের এই সফর।

বৈঠকে চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পসহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরকালে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটকালে বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সে ব্যাপারে স্বাগত জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং। এই সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করছে সেটাকেই তিনি সঠিক পথ বলে মনে করেন।

মিয়ানমার সফরকালে দেশের স্টেট কাউন্সিলর ও সেনাপ্রধানকে সংকট সমাধানের অনুরোধ জানাবেন ওয়াং। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার অনুরোধ জানাবেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ মিয়ানমারকে এই সংকট নিরসনে মনযোগী করেছে বলে মনে করেন চীন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে আন্তর্জাতিক চাপের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টাকে অধিক কার্যকর বলে ওয়াংয়ের অভিমত।

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপের ভাল ও মন্দ দুই দিকই আছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপ দিতে থাকলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

মার্কিন সিনেটের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার কক্সবাজারের বালুখালি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।

আজ রোববার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল, নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রর্ম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ফেডেরিকা মগিরিনি এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাদের সঙ্গে যাবেন। কক্সবাজার থেকে ফিরে পৃথকভাবে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এরপর জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটে তারা মিয়ানমার যাবেন। মিয়ানমারে তারা এশিয়া ও ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (আসেম) যোগ দেবেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আসেম বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ২২ ও ২৩ নভেম্বর দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে মিয়ানমার থেকে যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here