রিভিউ শুনানি নিয়ে আইনমন্ত্রী-অ্যাটর্নি জেনারেলের ভিন্ন মত

0
41

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনতে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া দরকার আছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছিলেন সাতজন বিচারপতি। এখন রিভিউ শুনতে হলে সাতজন বিচারপতি লাগবে। এখন আমাদের বিচারকের সংখ্যা আছেন পাঁচজন।

তবে আইনমন্ত্রী বলছেন অন্য কথা।গত ২৩ নভেম্বর রিভিউ শুনানি নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘রিভিউ শুনানিতে সাত বিচারপতি থাকতে হবে সুপ্রিমকোর্ট রুলসে এমন কোনো কথা নেই আমার জানামতে।’

উল্লেখ্য, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তোপের মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ছুটি নিয়ে দেশত্যাগের ২৮ দিনের মাথায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে গত ১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

রিভিউ দায়ের কবে নাগাদ করা হবে মঙ্গলবার জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এ মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে রিভিউ করব কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে করতে পারব না। তবে সোমবার আমরা ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড (সত্যায়িত) কপি পেয়েছি। এখন থেকে আমরা আরও ২৭ দিন সময় পাব। এ সময়ের মধ্যে রিভিউ করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১২ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, ‘আমরা রায়ের সার্টিফাইড কপি (সত্যায়িত অনুলিপি) পেয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল যুগান্তরকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় অথবা সলিসিটর অফিস থেকে হয়তো আবেদন করতে পারে, আমি যে আবেদন করেছিলাম এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সার্টিফাইড কপি (সত্যায়িত অনুলিপি) পেয়েছি।

তিনি বলেন, রিভিউয়ের নরমাল নিয়ম হলো যেই কয়জন মূল মামলাটা শুনেছেন তত সংখ্যক বা তার থেকে বেশি সংখ্যক বিচারপতিরা রিভিউ শুনানি করে পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন।
শুনানি হোক বা না হোক আমাদের সময়মতো ফাইল করতে হবে এটাও ঠিক। যেহেতু আমাদের হাতে এখনও ২৭ দিন সময় আছে। এর ভেতরেই আমরা ফাইল করব।

রিভিউ করতে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নিশ্চয় প্রস্তুত, প্রস্তুত না হলে দুই মাস ধরে কাজ করেছি কেন। তবে এসব মামলায় যতবারই আপনি পড়বেন ততবারই আপনাকে সংশোধন করতে হবে। যে গ্রাউন্ডে রিভিউ করা হবে সেগুলো আমরা আরও বেশি করে ঘষামাজা করছি। নতুন বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রিভিউ ফাইল করা হলেও কোনো রিভিউ শুনানি করার সম্ভবনা নেই। এটা আমিও মনে করছি।

এদিকে রিভিউ শুনানি নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিমকোর্ট রুলস উদ্ধৃত করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘রিভিউ শুনানিতে সাত বিচারপতি থকতে হবে, সুপ্রিমকোর্ট রুলসে এমন কোনো কথা নেই আমার জানামতে। এমন অনেক রিভিউ আছে যেখানে অনেকেই অবসরে গেছেন কিন্তু রিভিউ শুনানি হয়েছে। সো ফার এজ ইজ প্রেকটিকেবল এই কথাটা আছে রুলসে।

গত ২০ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন তৈরি করতে কাজ করছেন অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ১১ সদস্যের একটি কমিটি। রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ‘রিভিউ’ প্রস্তুতির জন্য এ কমিটি কাজ করছে।

গত ১৬ আগস্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল সাংবাদিকদের জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ সার্টিফাইড কপি (সত্যায়িত) চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গত ১ আগস্ট প্রকাশ করেন সুপ্রিমকোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় গত ১০ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, মামলার ফ্যাক্ট অব ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা প্রধান বিচারপতি তার রায়ে বলেছেন। রায়ে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তির পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয় নাই এমন বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।