‘রিভিউতেও মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে’

0
240

atorney-genaral_51641মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কামেস আলী যদি রিভিউ আবেদন না করেন তবে নিয়ম অনুযায়ী কারাকর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আশা করেন রিভিউতেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে।

তিনি বলেন, তবে এই ক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন করার জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আজই ট্রাইব্যুনালে যাবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে। পরে মীর কাসেম আলীকে রায় পড়ে শোনানো হবে।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে মাহবুবে আলম বলেন, এই রায় আজকে (সোমবার) প্রকাশিত হয়েছে। এখন এটার সার্টিফাইড কপি আসামীপক্ষ যদি নেয়, তার ১৫ দিনের ভিতরে তাকে রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে হবে। আজই ট্রাইব্যুনাল থেকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই রায়ের কপি পাঠানো হবে এবং মীর কাশেম আলীকে এই রায় সমন্ধে অবগত করানো হবে। রিভিউ দায়ের করলে এই অবগত হওয়ার ১৫ দিনের ভিতরে দায়ের করতে হবে। রিভিউ পিটিশনের রায়ের উপরই নির্ভর করবে তার দণ্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম।

তবে রিভিউতেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলেই বিশ্বাস অ্যাটর্নি জেনারেলের। তিনি বলেন, আসামীপক্ষ রিভিউ করতে পারে। আমার মনে হয় রিভিউ পিটিশনের স্কোপ খুবই সীমিত। কাজেই ফৌজদারি মামলায় বিশেষ করে রিভিউর উপর খুব বেশি একটা লাভ যে হয় এটা আমার জানা নাই। তবে তারা ফাইল করলে আমরা রিভিউ পিটিশন কনটেস্ট করব।’

আপিলের রায় প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে যেগুলো চার্জে বিচার হয়েছিল চার নম্বর চার্জে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১২ নম্বর চার্জ যেখানে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি চার্জে আপিল বিভাগ তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। অপরদিকে ২, ৩, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ এই চার্জগুলোতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে। ১১ নম্বর চার্জে তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগ সেই শাস্তি বহাল রেখেছে। সুতরাং অন্যান্য শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মতো মীর কাশেম আলীকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

মাহবুবে আলম বলেন, এটা আমাদের জন্য সফলতা টাকা থাকলেই যে আইনের হাত থেকে বা বিচারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। মীর কাশেম আলীর বিচারের মধ্য দিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, আইনের শাসন বা বিচার বিভাগের রায়টাই প্রধান। একটা লোক যতোভাবেই বানচাল করার চেষ্টা করুক, আমরা আদালতের মর্যাদা যদি ঠিকমতো রাখতে পারি তাহলে সব বিচারই হবে।’

আদালতের রায়ে অর্থ ব্যয় করা প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করার বিষয়ে আমি একটি কাগজ দাখিল করেছিলাম। তাতে আদালত বলেছেন তিনি লবিস্ট নিয়োগ করেছে কি করেন নাই এটা প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে ২৫ লক্ষ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ব্যাপারে যে রসিদ দিয়েছিলাম তা আদালত বিবেচনায় নিয়ে বলেছেন, মীর কাশেম আলী খুবই প্রতাপশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি বিচারকে ফ্রাস্টেট করে এটাকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য বিভিন্নরকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।’

আদালত যে প্রসিকিউশনের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট নয় সে প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রসিকিউশন এই মামলা যেভাবে পরিচালনা করেছেন তাতে আপিল বিভাগ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সম্পূর্ণ রায় আমার হাতে আসলে বুঝব এটা তারা বিস্তারিত কি বলেছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here