রিজার্ভ চুরির প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে ফিলিপাইন

0
244

deguito-afp-000_9d0ke-20160817_2A897E6BBCAD455EBAE4AA20383A5AFEআন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া আট কোটি ১০ ডলারের মধ্যে উদ্ধার হওয়া দেড় কোটি ডলার নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।

ডেইলি এনকোয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চার মাসের শুনানি শেষে সহকারী স্টেট প্রসিকিউটর গিলমারি ফে প্যাকামারা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তদন্তকাজের সমাপ্তি টানেন।

সংবাদমাধ্যমটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া দেড় কোটি ডলারের ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের ‘মুদ্রাপাচার’ আইন ভঙ্গ হয়েছিল কিনা তা জানতে দেশটির রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো, চার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও মুদ্রা বিনিময় কোম্পানি ফিলিপিন্স রেমিট্যান্স লিমিটেডের (ফিলরেম) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ তদন্ত চালানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়।

এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি বড় অংশ জুয়ার টেবিলে চলে যায়।

রিজল ব্যাংকের (আরসিবিসি) যে শাখার মাধ্যমে ওই টাকা বেহাত হয়েছিল, দেগুইতো সেই জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেগুইতোকে পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়; আরসিবিসিকে এক বিলিয়ন পেসো (প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ডলার) জরিমানা করে ফিলিপাইন সরকার।

রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির তদন্তের মাধ্যমে কিম অং নামের এক ক্যাসিনো ব্যবসায়ী দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইন সরকারের হাতে ফেরত দেন।

ওই টাকা দেশটির এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলে জমা হওয়ার পর বাংলাদেশকে তা ফেরত দিতে আদালতে প্রক্রিয়া শুরু করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অর্থ স্থানান্তরে ‘মুদ্রাপাচার’ আইন লঙ্ঘন হয়েছিল কী না- তা জানতে তদন্ত শুরু করে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।

এনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দেগুইতো, কিম অংসহ সবাই মুদ্রাপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ের ঘটনা ফিলিপাইনের মাটিতে না হওয়ায় তাতে তাদের মুদ্রাপাচার আইন ভঙ্গ হয়নি।

প্যাকামারার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, আগামী এক মাসের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থের আরও ২৭ লাখ ডলার রয়েছে ফিলিপাইনের অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গেইমিং করপোরেশনের হাতে। বাকি ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থের কোনো হদিস ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ পায়নি।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপাইনের আদালত আদেশ দিলে ‘শিগগিরই’ রিজার্ভের দেড় কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here