রাষ্ট্রপক্ষ ও সাঈদীর রিভিউ কার্যতালিকায়

0
183

002_282254ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন ও খালাস চেয়ে করা সাঈদীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, প্রধান বিচাপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের সোমবার দৈনন্দিন কার্যতালিকায় বিষয়টি ১৪৭ নম্বরে রয়েছে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় পুনর্বহাল চেয়ে গত বছরের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঁচটি যুক্তি দেখিয়ে ৩০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনসহ মোট ৬৫৩ পৃষ্ঠার আবেদনটি দাখিল করা হয়।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় কোনো আসামির সাজা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষের এটি দ্বিতীয় আবেদন। এর আগে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার সাজা বাড়ানোর (মৃত্যুদণ্ড) জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করেছিল।

একই বছরে ১৭ জানুয়ারি আপিলের রায় থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন সাঈদী। মোট ৯০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস পেতে ১৬ টি যুক্তি দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরকরণসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার দুটি ঘটনায় সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ এবং সাজা বহাল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক দুটি আপিল করে।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ উভয় পক্ষের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। রায়ে একাত্তরে একজন নারী নির্যাতনকারী, ধর্ষক ও ধর্মান্তরকারী হিসেবে সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করেন সর্বোচ্চ আদালত। আপিলের রায়ে তিনটি অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরে বাধ্য করায় সাঈদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদ এবং ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সাঈদীকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here