রাশিয়া সংযোগ, নিজেকে ‘ক্ষমা’ করার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প

0
61

donald-trump_52848_1500677345নিজ সন্তান ও সহযোগীদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করবেন প্রেসিডেন্ট * মুলারের তদন্ত বন্ধ করার উপায় অনুসন্ধান

রাশিয়ার সঙ্গে গোপন আঁতাতের ক্ষেত্রে নিজের সহযোগীদের, সন্তানদের এমনকি নিজেকে ক্ষমা করার উপায় খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের আইনজীবীদের কাছে এমন ক্ষমতার ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন তিনি।

গত বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও রুশ কর্মকর্তার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের গোপন আঁতাতের ব্যাপারে মার্কিন সিনেট, বিচার বিভাগ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে।

এমন পরিস্থিতিতে এসব অভিযোগ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ট্রাম্পের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে রাশিয়ার ব্যাপারে তদন্তে নিয়োজিত সাবেক এফবিআই প্রধান বিশেষ কৌঁসুলি জেমস মুলারকে থামিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন।

এমন প্রচেষ্টার সঙ্গে পরিচিত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মুলারের বিরুদ্ধে স্বার্থের দ্বন্দ্ববিষয়ক বিভিন্ন অভিযোগ জড়ো করে রুশ তদন্তে তার ভূমিকাকে খাটো করার বিভিন্ন উপায় এবং ট্রাম্প কিভাবে নিজেকে ক্ষমা করার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন তার সম্ভাব্য উপায় সন্ধান করছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা।

এর মধ্যে একটি সূত্র বলেছে, ট্রাম্প তার আইনজীবীদের জিজ্ঞাসা করেছেন, রুশ তদন্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তিনি নিজেকে ও নিজের সন্তানদের ক্ষমা করতে পারবেন কিনা। এ পর্যন্ত আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই নিজেকে নিজে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ব্যবহার করেননি।

সুতরাং এ সম্পর্কিত আইনি প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই হয়ে আছে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্রাম্পের আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সম্প্রতি বরখাস্ত এফবিআইর প্রধান জেমস কমির সঙ্গে বিশেষ কৌঁসুলি জেমস মুলারের সম্পর্কসহ মুলার ও তার গোয়েন্দা দলের ব্যাপারে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করেছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ সংযোগ প্রশ্নে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা বলে আসছিলেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই তার নিজেকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের উপায় খোঁজার খবর মার্কিন গণমাধ্যমে এলো। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আইনজীবীদের মুখপাত্র মার্ক কোরালো বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন।

গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রাখায় বর্তমান ও সাবেক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদেরকে তুলোধোনা করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক বিষয়াদি জানার চেষ্টা করা মুলারের ‘সীমা লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত হবে এবং এটা মুলারকে তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে বিতাড়িত করার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি করবে।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে খোদ রিপাবলিকান শিবিরই চটেছেন। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর সিএনএনকে বলেছেন, সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যা বলেছেন, তা নিয়ে তারা ভীত ও শঙ্কিত। মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, মুলারকে বরখাস্ত করা ট্রাম্পের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।

গত মাসে কমিকে বরখাস্ত করার পরে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে মুলারকে নিয়োগ করা হয়। দায়িত্ব নিয়ে মুলার যখন নিজের গোয়েন্দা দল গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেন, ওই একই সময়ে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত আইনজীবী দল গঠন করেন।

গত শনিবার হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে, ট্রাম্প সাবেক রাষ্ট্রীয় আইনজীবী টাই কবকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এদিকে মার্কিন সিনেট গোয়েন্দা কমিটির সর্বোচ্চ পদের একজন ডেমোক্রেট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি নিজেকে নিজে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করেন, সেটা হবে ‘চরম বিব্রতকর’।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, রাশিয়া প্রসঙ্গে চলমান তদন্তের মধ্যে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাসের মাথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি নিজেকে ও নিজের সন্তানদের ক্ষমা করতে নির্বাহী ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেন, তবে সেটা সত্যিই ‘প্রচণ্ড বিব্রতকর’ হবে।