রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন চলছে, কাজও চলছে

0
105

18967869_303নিউজ ডেস্ক: রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ করতে সরকারের কার্যক্রমও চলছে, আবার এটি বাতিল করতেও আন্দোলন চলছে৷ শনিবার রাজধানীতে এক সমাবেশ হয়েছে৷ ওই সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে৷

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আরো কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে৷ অন্যদিকে গত ১২ জুলাই ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) এবং ঠিকাদার কোম্পানি ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের (ভেল) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিআইএফসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য এবং ভেল’র প্রতিনিধি প্রেম পাল যাদব৷

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করতে বর্তমানে নতুনদিল্লি অবস্থান করছেন উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য৷ সেখান থেকেই টেলিফোনে শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই মুহূর্তে আমি বৈঠক করছি৷ আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে৷ নির্দিষ্ট সময়ে আমরা কাজ শেষ করতে পারব৷”

মূল কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এখন আর্থিক ‘কোজারে’ যাচ্ছি৷ এটার অনুমোদন হলেই মূল কাজ শুরু হবে৷ আমরা পরিবেশবান্ধব সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটা করব৷ আমরা সরকারি কোম্পানি যা বলবে সেটাই করব৷ আমাদের পক্ষে কোনো কিছু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই৷ আবারও বলছি, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না৷”

দুই প্রতিষ্ঠানের ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৪৯ কোটি মার্কিন ডলার)৷ এর ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তা কোম্পানি৷ অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে৷ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদার এই ঋণ সংগ্রহ করবে৷ এক্ষেত্রে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক থেকে ভেল ঋণের অর্থ পাবে৷ ২০১৯ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে৷

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘‘এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমাদের একটি বড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু হলো৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না৷ সন্ত্রাস আমাদের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না৷ তরুণদেরকে ধর্মান্ধতা ও অন্ধকারের পথ ছেড়ে সঠিক পথে ও দেশ গড়ার কাজে অংশীদার হওয়ার আহবান জানান তিনি৷”

এদিকে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছেই৷ শনিবারও রাজধানীর শহীদ মিনারের কাছে সমাবেশ হয়েছে৷ এই প্রকল্প বাতিল এবং সাত দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি৷ এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে৷ একই দাবিতে ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়৷ এ ঘোষণা দেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ৷

সমাবেশের আগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ টেলিফোনে বলেন, ‘‘আমাদেরতো চেষ্টা করতেই হবে৷ সুন্দরবনতো সবার জন্য৷ বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য সুন্দরবন এত বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে এটা রক্ষা করার জন্য সবাইকেই চেষ্টা করতে হবে৷ যারা বিষয়টা বুঝছেন তারা সবাই এর সঙ্গে এখন সম্পৃক্ত হচ্ছেন৷ আমরা এখনও বিশ্বাস করি সরকার তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আস্থা রাখবে, মানুষের দাবির প্রতি আস্থা রেখে এই প্রকল্প বাতিল করবে৷ পাশাপাশি বিশ্বের যে জনমত তৈরি হয়েছে ইউনেস্কোসহ তাদের দাবির প্রতিও আস্থা রাখবে এবং সহসাই এই প্রকল্প বাতিল করবে৷”

শনিবারের সমাবেশে ঘোষিত অন্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিলোবিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, আগামী ৭ জানুয়ারি দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবাদ দিবস, ১৪ জানুয়ারি দেশবাসীর সামনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সুলভ, টেকসই, পরিবেশ ও জনবান্ধব বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, ২৬ জানুয়ারির আগে সারাদেশে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ৷ মহাসমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতির নানা দিক আমরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও যুক্তি দিয়ে সরকারকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা তা শুনছেন না৷ জনবিরোধী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তারা অটল রয়েছে৷ আমরাও যেকোনো মূল্যে এটিকে প্রতিহত করব৷”

তিনি বলেন, ‘‘এ সরকার শুধু নামেই বাংলাদেশ সরকার৷ এর মধ্যে ভারতপন্থি রয়েছে; চীনপন্থি, রুশপন্থি, আমেরিকাপন্থি রয়েছে; শুধু বাংলাদেশপন্থি কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না৷’’ অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি করেন তিনি৷ -ডয়েচেভেলে