রামপাল প্রকল্প নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন, কয়লার পারদে হুমকিতে পড়বে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য

0
86

untitled-11_301878ঢাকা: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি কয়লা থেকে নির্গত পারদ জলে-স্থলে মিশে সুন্দরবন এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে ফেলবে। পাখি, সরীসৃপ, বাঘসহ এ অঞ্চলের সব বন্যপ্রাণী পারদ দূষণের শিকার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ প্রকৌশলী চার্লস টি ড্রিসকলের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। চার্লস টি ড্রিসকল নিউইয়র্কের সিরাকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক।

‘সুন্দরবনের জীব ভৌগোলিক বলয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত পারদের প্রভাব’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি গতকাল শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম।

তিনি বলেন, জ্বালানির মধ্যে কয়লা বায়ুম হবে না বলে সনি্নহিত অঞ্চল পারদ দূষণের বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূপৃষ্ঠে পতিত পারদ অতি ক্ষুদ্র কীট বা জীবাণু দ্বারা মিথাইল-পারদ যৌগে পরিবর্তিত হয়ে থাকে, যা খুব দ্রুত জীবদেহে পেঁৗছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই মিথাইল-পারদ যৌগটি সহজেই জলজ ও স্থল প্রাণিকুলের মাধ্যমে মানবদেহে সঞ্চিত হতে পারে।

সাধারণত মিথাইল-পারদে সংক্রমিত মাছ খাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ ও সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ মাছের পেশিকোষে মিথাইল-পারদ সহজেই জমে থাকে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত পারদ সহজেই পার্শ্ববর্তী জলাশয় ও নদীর মাছে সংক্রমিত হবে।

বদরুল ইমাম বলেন, এ গবেষণায় রামপাল প্রকল্পের দরপত্র, ওই স্থানের বৃষ্টিপাত, মাটি ও নদীর বৈশিষ্ট্য, বাতাসের প্রবাহ, গতিবেগসহ এক বছরের নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। রামপালে কয়লা পোড়ানোর ফলে কী পরিমাণ পারদ নিঃসৃত হতে পারে তা নিরূপণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা অনুমোদিত ‘ক্যালপাফ এয়ার পলিউশন মডেল’ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকা অবস্থায় কয়লা থেকে নির্গত পারদের নির্গমন অনুমিত পরিমাণের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল প্রকল্পের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান বিজ্ঞানীদের ১০টি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও তথ্য উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু সরকার কোনো কিছুই আমলে নিচ্ছে না, বরং একগুঁয়েমিভাবে ঢালাও বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এ প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। এর ক্ষতিকর প্রভাব শুরু হলে থামানোর পথ থাকবে না। যার প্রভাবে মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করবে, মারা যাবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও সুন্দরবনের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রামপাল নিয়ে তারা কেনো রাজনীতি চান না। শুধু জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্প বন্ধ করা উচিত।

ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, রামপাল প্রকল্পের নির্গত দূষণ বাংলাদেশের বিশাল এলাকাকে প্রভাবিত করবে। এসব এলাকায় শিশুদের অকাল মৃত্যু বাড়বে। কম ওজন নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করবে, যার বিরাট অংশ পঙ্গুত্ব নিয়ে সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুুল মতিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here