রংপুর সিটি নির্বাচন, উৎসবের ভোটে লাঙ্গলের জয়

0
63

কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি * নির্বাচন নিয়ে কোনো বিচু্যতি-অভিযোগ নেই: সিইসি * বিএনপির যত অভিযোগ দুপুরের পর

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (রসিক) উৎসবের ভোটে জয় হল জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার।

এই প্রথম দলীয় প্রতীকের ভোটে সদ্য বিদায়ী মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে সদ্যবিদায়ী মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে জয় ঘরে তুলেন জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী। রাত সোয়া ১২টার দিকে রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার মোস্তফাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৩টি কেন্দ্রের ফলই ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।

বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা হাতপাখা মার্কায় ২৪ হাজার ৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

আবদুল কুদ্দুস মই মার্কায় পেয়েছেন ১ হাজার ২৬২ ভোট।প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে সদ্যবিদায়ী মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে জয় ঘরে তুলেন জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী। রাত সোয়া ১২টার দিকে রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার মোস্তফাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৩টি কেন্দ্রের ফলই ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।

বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা হাতপাখা মার্কায় ২৪ হাজার ৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

আবদুল কুদ্দুস মই মার্কায় পেয়েছেন ১ হাজার ২৬২ ভোট। নির্বাচনে মোট সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মনে করেন, কেবল রংপুরেই নয়, সারা দেশেই লাঙ্গলের জোয়ার বইছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়ের এই ধারা শুরু হল রংপুর দিয়েই।

তারা বলছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দেশবাসী এমনিভাবে লাঙ্গলের বিজয় দেখতে পাবে। রংপুর দিয়েই  এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয় ভোট গণনা। নির্বাচন বিশ্লেষকদের প্রাথমিক ধারণা, প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

নগরীতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। অর্থাত্ প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ভোট দিয়েছেন। সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ও বাধাহীনভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া মোস্তাফিজার রহমানের জয়ের খবর আসতে থাকে।

শহরজুড়ে শুরু হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিজয় মিছিল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কয়েকদিন ধরেই রংপুর নগরীতে তার নিজ বাসভবন Èপল্লী নিবাস’-এ অবস্থান করছেন। রংপুরকে বলা হয় এরশাদের ঘঁাটি। রংপুরে এরশাদের এ অবস্থানই মোস্তাফিজার রহমানের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি তার বাসভবন থেকে বের হননি। তবে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘জয় হবে লাঙ্গলেরই।’ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন আস্থাশীল।

সর্বত্রই মেলার আমেজ: সুষ্ঠু ভোট হওয়ায় খুশি রংপুরের মানুষ। সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশনও। দিনভর ছিল উত্সবমুখর পরিবেশ। সর্বত্রই দেখা যায় মেলার আমেজ।

ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের এই ভোটে সকালের দিকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিল ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়। রংপুরের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দুপুরে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বিকালে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ছিল লম্বা লাইন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও কোনোরকম কারচুপি বা জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি।

ছিল না কোনো হাঙ্গামা, দেৌড়ঝঁাপ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেছেন, ‘কোনোরকম বিচু্যতি নেই, কোনোরকম অভিযোগও নেই।’ দুপুর ১২টায় নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আবদুল ওয়াহেদের মুখেও শোনা গেল ভোট নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা।

যুগান্তরকে তিনি বলেন,  ‘মুই পছন্দের প্রার্থীক ভোট দিবার পায়া খুউব খুশি হইছং। ভালো করিই ভোট দিছং। মোক কায়ো ভয় দেখায় নাই, মুই একলাই মনের মতো ভোট দিছং।’ ষাটোর্ধ্ব এই ভোটার বলেন, তিনি মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেয়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল’-এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি ব্রায়োন কেটি (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক) যুগান্তরকে বলেন, ‘চমৎকার ভোট হয়েছে। কোথাও সহিংসতা চোখে পড়েনি। মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছেন।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেছেন, বিশ্লেষক হিসেবে মনে করি, মোটা দাগে এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ হয়েছে। এছাড়া প্রকৃতিও সহায়ক ছিল।

নগরবাসীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ভোটের প্রচারেও শান্তিপূর্ণ ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। উল্লেখ করার মতো কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতা হয়নি প্রচারে। সবার মধ্যেই সৌহার্দপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছিল।

ভোটের দিনও সেই একই চিত্র। নগরবাসী বলছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি), সরকার ও রাজনৈতিক দল চাইলে যে কোনো নির্বাচন এমন উত্সবমুখর পরিবেশে হতে পারে। বৃহস্পতিবারের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কোনো অভিযোগ ছিল না। বিএনপির প্রার্থীর সকালে কোনো অভিযোগ না করলেও দুপুরে ভোট কারচুপির শঙ্কার কথা জানান এবং নির্বাচনী বুথ থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টায় একযোগে ভোট শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলে। প্রায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে ছিল মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ব্যাপক গণসংযোগ।

ছিল উৎসাহী মানুষের জটলা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ছিল কড়া নজরদারি। তবে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের এমন সহাবস্থানের ফলে পুরো সময়টাই ছিল উৎসবের আমেজ।

ভোট কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের পথগুলোতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ও ভোট নিয়ে আলোচনা ছিল প্রাণবন্ত।

ভোট গ্রহণ শেষে বিকালে কথা হয় রংপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জিএম সাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। কোনো প্রার্খী লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি।’

নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু এবং ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির কাওছার জামান বাবলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কেন্দ্রে ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোট নেয়া হয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে ডিভিএম ব্যবহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ছাইদুল ইসলাম।

এদিন নির্বাচন ঘিরে রংপুরজুড়ে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইসির নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের কড়াকড়িতে নগরীতে যানি্ত্রক যান চলাচল ছিল প্রায় বন্ধ। এতে গাড়ি সংকটে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। এই সুযোগে পরিবহন শ্রমিকদের যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। তবে নির্বাচন উপলক্ষে নগরীর সব ধরনের বিপণিবিতান, মার্কেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৫টি বুথের মধ্যে ৩টির সামনে ছোট সারি দেখা গেলেও একটিতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

ভোটারদের মুখে ছিল হাসি এবং তারা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দঁাড়িয়ে ভোট দিচ্ছিলেন। কথা হয় দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই গাউসুল আজমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, অসংখ্য ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে যান সকাল থেকেই। কেন্দ্রের ৫টি বুথের সব কটিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়।

দুটিতে বিএনপির ও একটিতে আওয়ামী লীগের এজেন্ট পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার মো. শাহজাহান আলী বলেন, সকালে সব দলের এজেন্ট ছিল।  হয়তো কেউ কেউ পরে চলে যেতে পারেন বা বুথের বাইরে যেতে পারেন।

কেন্দ্রের বাইরে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল বাতেন।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চলেছে। ভোটের দিন কেন্দ্রের বাইরে সব প্রার্থীর সমর্থকরাই প্রচার চালাচ্ছেন। আমার লোকজনও ভোট চাচ্ছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপ বা আতঙ্ক নেই।

৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারটারী এলাকার ভোটার রেজাউল করিম বলেন, ‘কী কইম বাহে ভোটের কথা। মুই বিয়াঙ্কা (সকালে) নিন (ঘুম) থেকে উঠি ফজলুর দোকানে চা খাইয়া খুব ভালো করি ভোট দিছুং। যারা ভোট নেছে, সেই ছ্যাওয়ালগু্যলা (ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা) খুব ভালো। এ্যাইনকা ভোট আর মুই দেখনাই।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজের মহল্লা নিউ সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টায় ভোট দেন।

ওই সময়ে তার সঙ্গে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ওই কেন্দ্রে ভোট দেন। তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এরশাদ বলেন, ‘ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হচ্ছে। এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য পরীক্ষা। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে- তা ইসিকে প্রমাণ করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা তার নিজের মহল্লা সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বেলা ১১টায় ভোট দেন।

একই কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। ভোট দেয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঝন্টু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটাররা ভালো পরিবেশেই ভোট দিচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত, বিপুল ভোটেই জয়ী হব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জয় উপহার দেব।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নগরীর আলমনগর কলেজ রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোয়া ৯টার দিকে ভোট দেন। ভোট নিয়ে সনে্তাষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো আছে। কোনো ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির খবর পাইনি। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন।

সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মাহীগঞ্জের দেওয়ানতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা। ভোট দেয়ার পর তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

দুপুর সোয়া ১২টায় তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। ভোটাররা আতঙ্কগ্রস্ত কিনা জানি না।

তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্রে আমার এজেন্ট ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। আবার অনেক কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি আমার সঙ্গেও বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে প্রশাসন।

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় আমার সঙ্গে দু’জনের বেশি নেতা থাকতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কোনো প্রার্থী ১০-১২ জন নিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করলেও কিছু বলা হচ্ছে না। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচএম শাহরিয়ার (আসিফ) সকাল ১০টায় নিউ সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করেন।

সহিংসতায় আহত ১ : রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন মোটা দাগে শান্তিপূর্ণ হলেও ভোট গ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে চারটায় সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মডার্ন পাবলিক স্কুল কেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছে। দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শাহীন নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

তিনি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, বিকাল চারটার দিকে ভোট গ্রহণ শেষে কাউন্সিলর প্রার্থী শাফিউল আলম শাফির (লাটিম) সমর্থক ভোট কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার চষ্টো করে। এ সময় দুই কাউন্সিলর প্রার্থী শাহ আলম ও জাকারিয়া আলম শিবলুর সমর্থকরা তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহীনকে মারধর করে তারা। পরে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিজের কেন্দ্রেই ঝন্টুর হার : নিজের কেন্দ্রেই ভোটে হেরেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিদায়ী মেয়র ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। ওই কেন্দ্রে তার চেয়ে ১২৫ ভোট বেশি পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

বৃহস্পতিবার দিনভর ভোট গ্রহণের পর সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করেন। সেখানে ঝন্টু নেৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে মোস্তফা পেয়েছেন ৫১৯ ভোট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here