রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ২৮ ডিসেম্বর ভোট, তফসিল ১২ নভেম্বর, কোটি নাগরিককে ল্যামিনেটেড এনআইডি দিতে চায় ইসি

0
107
নিউজ ডেস্ক: নাগরিককে ল্যামিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার প্রস্তাব করেছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। দেশের কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্মার্টকার্ড দেয়ার কার্যক্রমের মধ্যেই ২০১২ সালের পরে ভোটার হওয়া এসব নাগরিককে ল্যামিনেটেড কার্ড দেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে এ প্রস্তাব তোলা হল। তবে সিটি কর্পোরেশনভুক্ত এলাকার নতুন ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেয়া হবে। আজ কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ এবং ১২ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসির শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, কমিশন সভায় মোট ছয়টি এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে উপরোক্ত দুটি এজেন্ডা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। এটি কমিশনের ১২তম সভা। অন্য এজেন্ডাগুলো হচ্ছে- সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা এবং ভোট কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশাবলি হালনাগাদ সংক্রান্ত। বিকাশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা প্রদান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সফটওয়ার প্রণয়ন।

ল্যামিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা দ্রুতগতিতে স্মার্টকার্ড বিতরণ করছি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিতরণ চলছে। আগামী মাসে জেলা পর্যায়ে বিতরণ করব। অনেকের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা নানা ধরনের সেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব বিবেচনায় আপাতত ল্যামিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার প্রস্তাব করেছি। এ বিষয়ে কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের ল্যামিনেটেড কার্ড দেয়া হবে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধনে সময় দেয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি, চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্মার্টকার্ড দেয়া হচ্ছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ নভেম্বর কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এসব এলাকার বাইরে সারা দেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা ২০১২ সালের পর ভোটার হয়েছেন তাদের স্মার্টকার্ড বা ল্যামিনেটেড কার্ড কোনোটিই দেয়া হচ্ছে না। এমন নাগরিকের সংখ্যা এক কোটির বেশি। কার্ড না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন এসব ভোটার। পরিচয়পত্রের জন্য জেলা ও থানা নির্বাচন অফিসগুলোয় প্রতিদিন শত শত আবেদন জমা পড়ছে। এনআইডি না থাকায় বিভিন্ন সেবা নেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, যারা ভোটার হয়েও এনআইডি পাননি, তারা অনলাইনে নির্ধারিত ফরম নম্বর দিয়ে নিজের পরিচিতি নম্বর (এনআইডি নম্বর) ও তথ্য জানতে পারছেন। কিন্তু যাদের তথ্য সংশোধন করা প্রয়োজন, তাদের কিছুই করার থাকছে না। এ অবস্থায় এ ধরনের কোটি নাগরিককে ল্যামিনেটেড এনআইডি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ছয় কোটি টাকার কিছুটা বেশি। তারা আরও জানান, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব এর আগে করা হলেও স্মার্টকার্ড দেয়ার আশ্বাসে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

রংপুর সিটিতে ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন করার প্রস্তাব : রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এতে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণা করা হবে ১২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ নভেম্বর।

নিবন্ধনে আগ্রহী দলের আবেদনের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দেয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে নিবন্ধনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে নতুন দল হিসেবে আগ্রহী যে কেউ জোট বা যে কোনো নামেই আবেদন করতে পারে। ইসি যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেবে। তারা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়। শর্তগুলো হল- ১. আগ্রহী দলটিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনে জয়ী অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকতে হবে, ২. যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা অংশ নেয়া আসনগুলোর মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পেতে হবে, ৩. দলটির একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকতে হবে।