যে ৫ টি কারণে নবজাতক ও ছোট শিশুকে বালিশ দেয়া ঠিক নয়

0
820

167816_166বড়দের জন্য বালিশ প্রয়োজনীয় ও আরামদায়ক ঘুমের অনুষঙ্গ হলেও নবজাতক ও শিশুদের জন্য বালিশ প্রয়োজনীয় নয়। আসলে শিশুর জন্মের প্রথম দুই বছরে শিশুকে বালিশ থেকে দূরে রাখারই পরামর্শ দেয়া হয়। ছোট শিশুদের বালিশে ঘুম পারালে দমবন্ধ হওয়ার মত মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা হতে পারে যার কারণে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ছোট শিশুদের বালিশ না দেয়ার কারণগুলো জেনে নিই চলুন।

১। দমবন্ধ হওয়া

যদি মনে করেন যে, বালিশে ঘুমালেই শিশুর ভালো ঘুম হবে তাহলে এটা আপনার ভুল ধারণা।কারণ আপনার শিশুর কোমল মাথাটি নরম বালিশের ভেতরে ডুবে দমবন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শিশুর মাথা এক পাশ থেকে আরেক পাশে নাড়ানোর সময় শিশুর নরম ও ছোট নাকের ছিদ্র দুটো বালিশে চাপা পড়ে বন্ধ হয়ে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

২। SIDS হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

ছোট শিশুকে বালিশ দিলে সাফোকেশন হওয়া ছাড়াও সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (SIDS) হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় বহুলাংশে। স্পঞ্জ বা থারমোকুল বালিশ যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে তার কারণে  শিশুর শ্বাস কষ্টের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও নাল বালিশ ব্যবহার করা হলে শিশুর মাথা নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়।

৩। অতিমাত্রায় তাপ সৃষ্টি করতে পারে

শিশুদের শৌখিন বালিশগুলোতে আকর্ষণীয় কভার লাগানো থাকে। যার বেশীর ভাগই সুতির কাপড়ের না হয়ে পলিয়েস্টার বা অন্য ফেব্রিকের হয়ে থাকে। যা মাথার নীচের দিকের তাপ বৃদ্ধি করে থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রাও উঠানামা করে। বালিশের কভারের কারণে অত্যধিক ঘাম বা তাপ উৎপন্ন হলে তা হাইপারথারমিয়া নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, যা শিশুর জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

৪। ঘাড় মচকানোর সমস্যা হতে পারে

শিশুদের বালিশগুলো চ্যাপ্টা ও ফাঁপা হয়। দীর্ঘ সময় এই ধরণের বালিশে ঘুমালে শিশুর ঘাড় মচকানোর সমস্যা হতে পারে।

৫। ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম

নরম বালিশে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে ক্রমাগত চাপের ফলে শিশুর ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। SIDS এর ঝুঁকি কমানোর জন্য শিশুকে চিত করে শোয়ানো ভালো। তবে নরম বালিশে দীর্ঘক্ষণ ঘুলালে শিশুর মাথার আকারের বিকৃতি সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুর নিরাপদ ঘুমের জন্য করণীয় : 

–   শিশুকে সব সময় চিত করে শোয়ান, উপুড় করে নয়।

–   শিশুর ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বালিশে শোয়াবেন না।

–   শিশু যদি ২ ঘন্টার বেশি একই অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে তাহলে তার পাশ পরিবর্তন করে দিন।

–   আপনার শিশুকে যদি আলাদা বিছানায় শোয়ান তাহলে তার বিছানাটি আপনার বিছানার কাছে রাখুন এবং ইলেকট্রনিক গেজেট থেকে দূরে রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here