যে ড্র জয়ের চেয়েও বেশি

0
83

স্পোর্টস ডেস্ক: আগের দিনে পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গেই ড্র করেছে। টেস্টের শেষ দিনে এমন লড়াই করাটা সত্যিই দারুণ। এই ড্র জয়ের চেয়ে কম কিসে? ২০০ রানে পিছিয়ে ৮১ রানে ৩ উইকেটে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বাংলাদেশ শেষ দিনে এতটা ভালো খেলবে তা কারোরই বিশ্বাস হয়নি। সেই অবিশ্বাসের জায়গা থেকেই নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলেছেন মুমিনুল হক সৌরভ এবং লিটন কুমার দাসরা। মূলত এই দুই ব্যাটসম্যানের কল্যাণেই হারের শঙ্কা কাটিয়ে দাপটের সঙ্গে ড্র করেছে টাইগাররা।

এমন ড্রয়ের পর মুমিনুলকে জাতীয় বীরই বলা চলে। প্রথমে ১৭৬ রান করা মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসে১৭৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ১০৫ রান করেন। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন লিটন কুমার দাস। নিজের সপ্তম টেস্টে সেঞ্চুরি দোরগোড়ায় গিয়েও হোঁচট খান লিটন। মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরির দেখা পাননি এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রান করেও শ্রীলংকার চেয়ে ২০০ রানে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮১ রানে তামিম-ইমরুল-মুশফিকদের উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের আশঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতে রোববার দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং করে দলকে পরাজয় থেকে মুক্তি দিয়ে ড্র উপহার দেন মুমিনুল-লিটনরা।

পিচের অবস্থা বিবেচনায় টেস্টের শেষ দিনে ব্যাটিং করাটা তুলনামূলক কঠিন। শেষ দিনে উইকেট ফ্ল্যাট তথা ব্যাটসম্যনদের জন্য কঠিন হয়ে থাকে। এমন উইকেটে বোলাররাই বেশি ফায়দা লুটাতে পারেন। যে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকাটাই হয়ে যায় চ্যালেঞ্জিং। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জকে সহজ করে নিয়েছেন মুমিনুল-লিটনরা। তাদের সাহসি লাড়াইয়ে পথ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের কারণেই পরাজয়ের শঙ্কা কাটিয়ে মাথা উঁচু করে বীরের বেশে জহুর আহমেদ টেস্টে ড্র করেছে বাংলাদেশ। শেষ দিনের বেশির ভাগ সময় উইকেটে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে গেছেন সৌরভ-লিটনরা। তাদের কল্যাণেই পরাজয় থেকে মুক্তি। তাদের এমন দারুণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষসহ বিশ্লেষকরাও।

তবে ভালো খেলও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন লিটন কুমার দাস। লাঞ্চ শেষে চা বিরতির ঠিক আগে রঙ্গনা হেরাথকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিলরুয়ানপ্যারেরার তালুবন্দি হওয়ার আগে ১৮২ বলে ১১ চারের সাহায্যে ৯৪ রান করেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। মুমিনুলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৮৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তিনি।

মুমিনুল-লিটনদের বিদায়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ভালোভাবেই দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জহুর আহমেদ টেস্ট নিশ্চিত ড্র জেনে বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকা উভয় দলের অধিনায়কের সম্মতিতে খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়।

আগের দিনে ২৬.৫ ওভারে খেলা বাংলাদেশ শেষ দিনে আরও ৭৩.১ ওভার খেলে দ্বিতীয় ইনিংস সমাপ্ত করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০৭ রান।

জহুর আহমেদ টেস্টে দুই দল মিলে রান করেছে ১৫৩৩ রান। পাঁচ দিনে উইকেটে পড়েছে ২৪টি।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫১৩/১০ (মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, মাহমুদউল্লাহ ৮৩*, তামিম ৫২)।

এবং দ্বিতীয় ইনিংস : ৩০৭/৫ (মুমিনুল ১০৫, লিটন ৯৪, তামিম ৪১)।

শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস : ৭১৩/৯ (মেন্ডিস ১৯৬, ডি সিলভা ১৭৩, সিলভা ১০৯, চান্দিমাল ৮৭, ডিকওয়েলা ৬২; তাইজুল ৪/২১৯, মিরাজ ৩/১৭৪)।

ফলা : ড্র।

LEAVE A REPLY