যে কারণে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত চেয়েছেন রিটকারীরা

0
65

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর আদেশ হবে আগামীকাল বুধবার (১৭ জানুয়ারি)। মঙ্গলবার এই রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়। এই শুনানিতে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন রিটকারী ও তার আইনজীবী। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

হাইকোর্টে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করেন ওয়ার্ড হিসেবে যুক্ত হওয়া ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

রিটে তারা যুক্তি দেখান, গত ৯ জানুয়ারির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এখন যিনি প্রার্থী হবেন তিনি কিন্তু জানেন না তিনি ভোটার কিনা। তাছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে সেটাও সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৫ (৩) উপধারা অনুযায়ী ‘মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা পঁচাত্তর ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, করপোরেশন, এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’ কিন্তু দেখা যায় উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি মিলে কাউন্সিলর শতকরা পঁচাত্তর ভাগ হয় না। কারণ, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে তো নির্বাচনই হয়নি। সে হিসাবে মেয়র পদই তো গঠিত হচ্ছে না।

আদালতে রিটকারীদের আইনজীবী হিসেবে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আহসান হাবিব ভূঁইয়া। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার সচিব, উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বিবাদী করা হয়েছে। অপর রিটটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিবকে বিবাদী করা হয়।

পরে এসব যুক্তির বিষয়ে রিটকারীদের আইনজীবী আহসান হাবিব ভূঁইয়া বলেন, সকালে দুজন চেয়ারম্যানের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডিএনসিসি’র নির্বাচনে স্থগিত করেছেন। তারা রিট আবেদনে বেশ কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন হবে। একই দিনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদেও ভোটগ্রহণ করা হবে। গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ জানুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ জানুয়ারি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে উপনির্বাচনের ৫৪টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৩৪৯, ভোটকক্ষ সাত হাজার ৫১৬টি, মোট ভোটার ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০। আর উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৪।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here