যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের ঈর্ষনীয় সাফল্য

0
94

05112017_16_DHS_IT_EAOBওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য ও প্রযুক্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কি সরকারী কি বেসরকারী তথ্য ও প্রযুক্তির সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে কাজ করে আকাশচুম্বী সাফল্য অর্জন করেছে। সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ডাটাবেজ ডেভেলপমেন্ট এবং ম্যানেজম্যান্ট, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পারফর্মেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, টেষ্টিং সর্বক্ষেত্রেই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশীরা সাফল্যের ¯^াক্ষর রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত। আয় করছেন পাঁচ থেকে ছয় ফিগারের বেতন।

কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করছেন এন্টারপ্রাইজ প্রোগ্রাম ল্যাংগুয়েজ জাভা, সি, সি প্লাস প্লাস, পাইথন, ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক ইত্যাদি। এছাড়াও ব্যবহার করছেন গিটহাব, জেনকিনস, লোডরানার, জেমিটার, এইচপি পারফর্মেন্স সেন্টার, ওরাকল, সিক্যুয়েল সার্ভার, নিউরেলিক, ষ্পালাংক, কুইকটেষ্ট প্রো, রুবি কুকুমবার, সেলেনিয়াম, জিরা, এইচপি এএলএম ইত্যাদি নানা জনপ্রিয় টুলস। ব্যবহার করছেন উইন্ডোজ, ইউনি·/লাইনে·, ক্লাউড সহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এর ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের কন্ট্রাক্টর তরুণ বাংলাদেশী শেখ রহমান। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই অত্যন্ত দক্ষতা আর সফলতার সাথে অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার টিমের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন তিনি। প্রায় বিশ জন ইঞ্জিনিয়ারের একটি অটোমেশন দলের দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ রহমানের টিমের বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশী এবং সবাই অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি। বলেন, আমি একজন বাংলাদেশী। আমার যখনই কোন সুযোগ আসে আমি তখনই বাংলাদেশীদেরকেই নিয়োগ প্রদান করে থাকি।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এর ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ম্যানাজার তরুণ বাংলাদেশী শেখ রহমান বলেন, আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। বাংলাদেশেই আমি জন্মগ্রহন করেছি। কিন্তু এখানে আসার পর থেকেই ইনফরমেশন টেকনলজীর উপর আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং পড়াশুনা করি। তিনি বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমি একটি বড় এবং শক্তিশালী মেধা সম্পন্ন বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।

শেখ রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে শতশত বাংলাদেশী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। শুধু হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এর ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে প্রায় ষাট থেকে সত্তরজন বাংলাদেশী কাজ করছে। আমি যে কোম্পানীর হয়ে কাজ করছি সেই কোম্পনী থেকে প্রায় ত্রিশজন বাংলাদেশী কাজ করছেন। তিনি বলেন, যখনই আমি নিয়োগ প্রদানের সুযোগ পাই সবার আগে আমি বাংলাদেশী খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং তাদের নিয়োগের ব্যাপারে সর্বাত্তক সহযোগীতা করার চেষ্টা করি।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এর ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন মোহাম্মদ সাইদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশীরা অত্যন্ত মেধাবী। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বিভাগে শতশত বাংলাদেশী অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করছে।

ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে লীড হিসাবে কাজ করছেন মোহাম্মদ আজাদ। ছয় থেকে সাতজনের একটি দলের নেতৃত্ব দিচেছন তিনি। তার টিমে আমেরিকান, রাশিয়ান, অফ্রিকান সহ বিভিন্ন দেশের ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। আবদুল্লা চৌধুরী কাজ করছেন পারফর্মন্সে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। অত্যন্ত দক্ষতা আর সফলতার সাথেই কাজ পনের জনের একটি দলে। এই দলে আমেরিকান, রাশিয়ান, চাইনিজ, আফ্রিকান, শ্রিলংকান সহ নানা দেশের পারফর্মেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করছে। সবার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তিনি কাজ করছেন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে।

এছাড়াও তারিক আলম, মুকুল মোহসীন, তাজবীর আহমেদ, আবু মাহফুজ, আজাদ আহমেদ, কাজী রশীদ, মোহাম্মদ আলম সহ আরো অনেক তরুন প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টে। দেশের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য আরো বড়কিছু করার আগ্রহ ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এর ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ম্যানাজার শেখ রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মকে নুতন নুতন তথ্য ও প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করে তাদেরকে সেই টেকনলজীর সাথে আপডেট রেখে কাজের উপযুক্ত করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যহত আছে। খুব শিঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য ও প্রযুক্তিতে কর্মরতদের একটি ছাতার নিচে নিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ করে সভা সেমিনার প্রযুক্তিগত তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে ভূমীকা রাখার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। খুব শিঘ্রই এই ব্যাপারে সবার সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই যার মাধ্যমে তথ্য ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ নুতন প্রজন্মের তরুণরা প্রবাসে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমীকা রাখতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দিনভর কাজ শেষে বিকেল সন্ধ্যায় বাড়ীর ছাদে পিজ্জা, সোডা, পানি, চিপস ইত্যাদি নিয়ে আডডা দিয়ে তথ্য প্রযুক্তি সম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশীরা আবারো ঘরে ফিরে যান পরিবার পরিজনের কাছে। আপনজনের ছোঁয়ায় আবারো শুরু হয় পরেরদিন কাজে যাবার প্রস্তুতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here