যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে: অর্থমন্ত্রী

0
53

mohith__53443_1501169429ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দুর্নীতি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। যদি এতে সবাই অংশ না নেয় তাহলে দুর্নীতি হয় কীভাবে। পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। সবাই যদি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত না থাকত তাহলে দুর্নীতি হতো না।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ‘১০৬’-এর কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

মুহিত বলেন, খুব তাড়াতাড়ি এই দুর্নীতি শুধরে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আশা করা যায়, আগামী ৮-১০ বছরের মধ্যে তা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

দুদক কার্যালয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল না। এটা একটি গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। একটু শরমের বিষয় ছিল। এখন আর তা নেই। অনেক সময় বাধ্য হয়ে আমাদের দুর্নীতিতে জড়িত হতে হয়। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে জীবনে দু’বার ‘বখশিশ’ দেয়ার অভিজ্ঞতাও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমি তখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক। আমার বাড়িতে ন্যাচারাল গ্যাস কানেকশন প্রয়োজন, তখন আমি তিতাস গ্যাসকে বললাম। তারা এলো, কানেকশনটা দিয়ে দিল।

‘তখন কোম্পানির যে কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান করছিলেন, যাওয়ার সময় তিনি বললেন, স্যার আমাদের কিছু বখশিশ দিতে হয়। তখন আমি ভেরি সারপ্রাইজড, কোনো দিন বখশিশ দিইনি। তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে, আমি তো এখন সাধারণ নাগরিক। তখন কিছু বখশিশ দিলাম। এর আগে ফিলিপিন্সে চাকরি করার সময় বাসা ভাড়া নিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্যও বখশিশ দিতে হয়েছিল।’

মুহিত বলেন, পৃথিবীতে দুই ভাবে দুর্নীতি উৎপাটন হয়েছে। প্রথমত বিপ্লব এবং দ্বিতীয়ত বিভিন্ন কৌশল বা উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে- যাতে দুর্নীতি করার সুযোগ কমে আসে।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও যাদের হাতে সেবা দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই দুর্নীতি করেন। এ ক্ষেত্রে সেবা প্রত্যাশীদেরও পরোক্ষভাবে দুর্নীতিতে জড়ানো হচ্ছে। তবে সেবা প্রত্যাশীরা যদি সম্মিলিতভাবে এতে অংশগ্রহণ না করেন তাহলে দুর্নীতি করা কঠিন হয়ে যাবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রযুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পেমেন্ট প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায়, এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমে এসেছে। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারবে।

মুহিত বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এমনভাবে করা হয়েছে যা দিয়ে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করতে পারেন। বেঁচে থাকার জন্য দুর্নীতি করতে হবেÑ এমন অবস্থা এখন আর নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুদকের ১০৬ নম্বরে যে কেউ ইচ্ছা করলে যে কোনো নম্বর থেকে ফ্রি কল করে দুর্নীতির অভিযোগের নালিশ জানাতে পারবেন। অভিযোগকারী তদন্তেরও আবেদন করতে পারবেন। দুদক অভিযোগকারীর নাম পরিচয় গোপন রেখে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অভিযোগ নেবে।

দুদকের উদ্দেশে মুহিত বলেন, ‘তদন্ত নিয়ে একটি বক্তব্য আছে, তদন্ত করবেন ভালো কথা। কিন্তু জেহাদি হবেন না। জেহাদি হলে তদন্তের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, যে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ভালোভাবে তদন্ত করবেন। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

নাম উল্লেখ না করে দুদকের সাবেক এক চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় দুদকের এক চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। জেহাদের ভবিষ্যৎ সবসময় অন্ধকার হয়। কারণ জেহাদ একটি অন্য জিনিস। অবশ্যই ধর্মযুদ্ধে এসব ছিল, এখন আর নেই। জেহাদের নাম নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয় না।’

অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো আন্দোলন সংগ্রাম কখনও সফল হয়নি। যখনই কোনো সমস্যা এসেছে জনগণই সংগঠিত হয়ে তা সমাধান করছে। আজকের বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। আমরা যারা রক্ষক, তাদেরই কেউ কেউ ভক্ষক হিসেবে পরিণত হয়েছি। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ জনগণের সঙ্গে কমিশনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। ১০৬ এর মাধ্যমে দুর্নীতি ঘটার আগে, ঘটার সময় এবং ঘটার পরেও অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুদকের কর্মকর্তারা অত্যন্ত ঝুঁকি  নিয়ে কাজ করে উল্লেখ করে তাদের জন্য ঝুঁকিভাতা ও রেশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি  অর্থমন্ত্রীকে বিবেচনায় নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান দুদক চেয়ারম্যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here