ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিজভীর স্বীকারোক্তি ‘আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি’

0
42

বিনোদন ডেস্ক: গত এক সপ্তাহ ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যু রহস্য।

সালমান শাহ’র মৃত্যুর ২১ বছর পর তার বাবার দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির দেয়া এক ভিডিও বার্তায় নায়কের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার ফেসবুকে দেয়া প্রথম ভিডিও বার্তায় রুবি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছিল। আমার স্বামী তার খুনের সঙ্গে জড়িত। এটা সামিরার (সালমান শাহ’র স্ত্রী) ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজবেন্ডকে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে, সব চাইনিজ মানুষ ছিল। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। এই খুনের বিষয়ে আমি সব জানি। যেভাবেই হোক আবার যেন মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি যেমন করেই হোক আদালতে সাক্ষী দেব।

এই ভিডিও ফেসবুকে দেয়ার দুইদিন পর বুধবার সকালে আরেকটি ভিডিও দেন রুবি।

যেখানে আগের ভিডিওতে দেয়া বক্তব্য থেকে সরে আসেন রুবি। রুবি দ্বিতীয় ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি বলব না যে এটা আত্মহত্যা বা হত্যা। এটা আমার বলা উচিত না। আমি আগেরবার যেটা বলেছি ভিডিওতে সেটাতে আমার ভুল (রং) ছিল। আমি ইমোশনাল ছিলাম বেশি, যার জন্য আমি বলেছিলাম হত্যা। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এটা সামিরা এবং তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বের হবে।

ঠিক ২০ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই সালমানের বাবার ডিওএইচএস এর বাসায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের এক যুবক হাজির হন।

পরে সালমানের বাবা রিজভীকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এর ঠিক তিন দিন পর রিজভী আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

রেকর্ড করা সেই জবানবন্দীতে রিজভী বলেন, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই এসে সালমানের পা বাঁধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে। এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝোলায়। সালমানকে হত্যা করতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে সামিরার মা লাতিফা হক ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও পরবর্তীতে যখন তদন্তকারী কর্মকর্তা রিজভীকে জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন সে জানায় যে সালমান শাহ হত্যা বিষয়ে সে কিছুই জানে না।

রিজভী এখন কোথায় আছে কেমন আছে কেউ বলতে পারছে না।

সম্প্রতি রিজভীর দেয়া এই জবানবন্দি ভাইরাল হয়েছে।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান তার স্ত্রী সামিরা। কিন্তু সালমান শাহের পরিবার একে হত্যা বলে আসছিল। সালমান শাহের মৃত্যুর পর তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। বিভিন্ন সংস্থা এ মামলার তদন্ত করেছে। ওই সময় সালমানের মা নীলা চৌধুরী আদালতে পিটিশন দায়ের করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ নিয়ে আলাদা কোনো মামলা হয়নি।

তবে গত দুই দশকেও এ মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যাই বলেছিল। কিন্তু নারাজি দিয়েছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here